অনূর্ধ্ব ১৩ জাতীয় দাবার আসরে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হলো রাজ্যের ক্যান্ডিডেট মাস্টার আরাধ্যা দাস। রাজ্যের তৃতীয় দাবাড়ু হিসাবে ভারত সেরার শিরোপা পেলো আরাধ্যা। পুদুচেরিতে ১১ রাউন্ডে সাড়ে ৯ পয়েন্ট পেয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রাজ্যের সোনার মেয়ে। বুধবার শেষ রাউন্ডে কেরালার জানকী এস ডি-র মুখোমুখি হয়েছিল আরাধ্যা। কালো ঘুঁটি নিয়ে গিওকো পিয়ানো ভেরিয়েশনে খেলে ৮৯ চালে জয় ছিনিয়ে নেয় অনুজ এবং অঞ্জু রাণী দাসের একমাত্র মেয়েটি। শ্রীকৃষ্ণ মিশন স্কুলের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী আরাধ্যা এদিন ম্যাচের শুরু থেকেই দাপটের সাথে খেলে। ৬১ চালের পর ভালো জায়গায় পৌঁছে যায় সে। ১৯৯৫ সালে নাগপুরে অনূর্ধ্ব ১৬ বিভাগে ভারত সেরা হয়েছিল ফিডে মাস্টার প্রসেনজিৎ দত্ত। গত বছর গাজিয়াবাদে অনূর্ধ্ব ১৫ দাবার আসরে ভারত সেরা হয়েছিল ইন্টারন্যাশনাল মাস্টার অর্শিয়া দাস। এবার আরাধ্যা ভারত সেরা হলো। ভারত সেরা হওয়ার সুবাদে বিশ্ব এবং এশিয়ান আসরে খেলার যোগ্যতা অর্জন করলো আরাধ্যা। ভারত সেরা দাবাড়ুকে অভিনন্দন জানিয়েছেন রাজ্য দাবা সংস্থার সভাপতি অভিজিৎ মল্লিক এবং সচিব মিঠু। সভাপতি বলেন, ত্রিপুরার দাবা যে এগিয়ে চলছে এর প্রমাণ পাওয়া গেলো আবার। সংস্থার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রাজ্যে এই খেলার উন্নতিতে কাজ করে চলছি আমরা। এরই সুফল পাওয়া যাচ্ছে। আরাধ্যার সাফল্যে রাজ্যে এই খেলার জনপ্রিয়তা আরও বাড়াবে। নূতন প্রজন্ম উৎসাহিত হবে। আরাধ্যকে অভিনন্দন জানিয়েছেন কোচ প্রসেনজিৎ দত্ত। আগামী দিনে আরও সাফল্য কামনা করেন। শ্রীকৃষ্ণ মিশন স্কুলের অধ্যক্ষ চন্দ্র ব্যানার্জি খুশি আরাধ্যার সাফল্য। বলেন, অভূতপূর্ব সাফল্য। ওর সাফল্য স্কুলের অন্যান্য ছাত্র-ছাত্রীদের উৎসাহিত করবে। আগামী দিনেও আরাধ্যার পাশে থাকব আমরা। রাজ্যের পাশাপাশি স্কুলের নামও উজ্জ্বল করলো আমাদের গর্ব আরাধ্যা। সোনার মেয়েকে অভিনন্দন জানিয়েছেন রাজ্যের আরেক গর্ব অর্শিয়া। খুশির হাওয়া রাজ্যের দাবা প্রেমীদের মধ্যে। ভারত সেরা হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সোস্যাল মিডিয়ায় অভিনন্দনের বণ্যায় ভাসছে আরাধ্যা। পুদুচেরী থেকে টেলিফোনে আরাধ্যা বলেন, রাজ্যবাসীর আশার্বাদ এবং ভালোবাসার সুফল পেলাম। সাফল্যের ধারা আগামীদিনে বজায় রাখার চেষ্টা করবো। এখন প্রত্যাশা বেড়ে গেছে। চেষ্টা করবো সকলের প্রত্যাশা পূরণ করার।


