ক্রিকেট একাডেমির জমি টিসিএ’কে দেয়া নিয়ে সরকারের দ্বিচারিতা!

Date:

Share post:

ত্রিপুরায় ক্রিকেট একাডেমি গড়তে রাজ্য ক্রিকেট এসোসিয়েশনকে জমি দিলো রাজ্য সরকার। কিন্তু এই জমি সরকার থেকে মোট অঙ্কের টাকা দিয়ে কিনতে হবে টিসিএ’কে! অথচ টিসিএ’র পুরষ্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে ক্রিকেট একাডেমির জন্য সরকার জমি দেয়ার ক্ষেত্রে টাকা না দেয়ার কথাই বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা।
রাজ্যে ক্রিকেট একাডেমি গড়ার জন্য রাজ্য সরকার টিসিএ’র পাশে রয়েছে। এর জন্য টিসিএ’র জমি কেনার কোন প্রয়োজন নেই। জমি কেনার টাকা দিয়ে একাডেমির পরিকাঠামো গড়ে তুলতে পরামর্শ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ক্রিকেট সংস্থার বার্ষিক পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন “সরকারও সব সময় ক্রিকেট সংস্থার পাশে আছে। ক্রিকেট একাডেমির জন্য এত পয়সা খরচা করে কেন আপনার জমি কিনছেন? সরকার আপনাদের জমি দেবে। আর জমি কেনার জন্য যে পয়সাটা খরচা হতো সেটা দিয়ে আপনার ক্রিকেটারদের জন্য এবং পরিকাঠামোর জন্য কাজে লাগান”।
মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই জমির জন্য ফাইলে সই করে দিয়েছেন।
কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী একাডেমির জন্য জমি সরকার দেবে বলে অনুষ্ঠানে ঘোষণা দিলেও রাজ্য সরকারের রাজস্ব দপ্তর জমির মূল্য বাবদ ৬ কোটি ৮১ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা জমা করতে বলেছে টিসিএ’কে। এম বি বি স্টেডিয়ামের ক্লাব হাউসে এক সাংবাদিক সম্মেলনে টিসিএ সচিব সুব্রত দে এমনটাই জানান। তিনি রাজস্ব দপ্তরের চিঠি সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরে বলেন, “একটা খুশির খবর হলো, রাজ্য সরকারের রাজস্ব দপ্তর চিঠি দিয়েছে। সেকেরকোট এলাকার মধুবন রেলব্রিজ এলাকায় ৩০.৩০ একর সরকারি জমি ক্রিকেট একাডেমির জন্য দেয়া হয়েছে। এর জন্য টিসিএ’কে জমির মূল্য বাবদ ৬ কোটি ৮১ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা জমা করতে বলা হয়েছে। এতে রাজ্যের ক্রিকেটাররা উপকৃত হবে। খুব শীঘ্রই জমি হস্তান্তরের কাজ হয়ে যাবে”।
এবিষয়ে সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্নের জবাবে টিসিএ সচিব জানান, জমির দাম কমানোর জন্য জেলাশাসকের সাথে আলোচনা করা হবে। যদি কিছুটা হলেও ছাড় পাওয়া যায় সেটাই লাভ হবে। আর একাডেমি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ক্রিকেট বোর্ডও আর্থিক এবং টেকনিক্যাল বিষয়ে সব সহায়তা করবে।
কিন্তু প্রশ্ন হলো মুখ্যমন্ত্রী ক্রিকেট একাডেমির জন্য বিনামূল্যে জমি দেয়ার ঘোষণার পর রাজ্য সরকার কীভাবে জমির জন্য সাড়ে ৬ কোটি টাকার উপর টিসিএ’র কাছে চাইলো? গোটা বিষয়টা নিয়ে নতুন করে জল্পনার সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়েছে, টিসিএ’র ২০১৭-১৮ এবং ২০১৮-১৯ কমিটি সঠিক সময়ে টিডিএস জমা না করায় বিশাল টাকা পেনাল্টি হিসেবে বকেয়া ফেলে যায়। তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন সচিব তাপস দে ও কোষাধ্যক্ষ নারায়নবাবুর সময় কালে ২০১৭-১৮ সালে পেনাল্টি হয় ১১ কোটি ২৩ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা! আর ২০১৮-১৯ সালে রিসিভার বিচারক এ বি পাল ও কোষাধ্যক্ষ অলক ঘোষের সময়কালে পেনাল্টি হয় ৯ কোটি ৮২ লক্ষ ৪৯ হাজার! বিগত দিনের এই পাপ থাকে বহু লড়াই করে মুক্তি পায় টিসিএ। গুয়াহাটির একটি বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে আইনি লড়াই করে টিসিএ অবশেষে টিডিএস ফেরত পায় ২০১৭-১৮ সালের ১ কোটি ২৮ লক্ষ টাকা এবন্ড ২০১৮-১৯ সালের ১ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকা। গত ৯ সেপ্টেম্বর এবিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি হয়। এছাড়াও টিসিএ-র ইন্টেরিয়র ডিজাইনিং বাবদ ২৫ লক্ষ টাকার বকেয়া সঠিক নথিপত্রের অভাবে দেয়া যাচ্ছে না বলেও সচিব জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

Related articles

দুই ওপেনারের ব্যাটিংয়ে গর্বিত দল : শ্রেয়াস

দু’ম্যাচ বাকি থাকতেই নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-২০ সিরিজ জয় করে নিল ভারত। নিউ জ়িল্যান্ডের মাটিতে কিউইজদের বিরুদ্ধে শ্রেয়াস আয়ারদের...

রেকর্ড ভেঙে রেকর্ড গড়ে অনন্য অভিষেক

৩৫ বলে সেঞ্চুরি । ৩৮ বলে ১১৩। ৯টি বাউন্ডারি , ১১টি ওভার বাউন্ডারি। ওয়েলিংটনের ২২ গজে নিউ জ়িল্যান্ডের...

‘ফিল্ডিং’র সময়েই বৈভবকে নিয়ে পরিকল্পনা সাজিয়েছিলাম’ : অভিষেক

মাত্র ৩৫ বলে শতরান করেছেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের তরুণ তুর্কি ওপেনার অভিষেক শর্মা । নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তৃতীয় টি-২০...

১৩৭ রানে শেষ নাইডু রাজ্যদল!

১৩৭ রানে শেষ অনূর্ধ্ব-‌২৩ কর্ণেল সিকে নাইডু ট্রফির রাজ্যদল! ভুল সিদ্ধান্তের খেসারত দিতে হয়েছে দলকে? টানা ৩ দিন...