প্রথমার্ধে নিজের ছায়া হয়ে থাকা কিলিয়ান এমবাপে বিরতির পর এগিয়ে দেন দলকে। এরপরই তিনি মাঠ ছাড়েন চোট নিয়ে। ফলে তুরস্ককে হারিয়ে নেশন্স লিগে ভল সূচনা করলেও, পুরোপুরি স্বস্তি নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারল না ফ্রান্স। প্রতিপক্ষের মাঠে ১-০ গোলে জিতেছে জিনেদিন জিদানের দল। এই ম্যাচ দিয়ে ফ্রান্সের কোচ হিসেবে পথচলা শুরু হলো ১৯৯৮ বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক জিদানের। গোলরক্ষক লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ায় শেষ দিকে কিছুক্ষণ ১০ জনে খেলতে হয় তুরস্ককে।
‘এ’ লিগের এক নম্বর গ্রুপের ম্যাচটিতে বল দখলে ফ্রান্স এগিয়ে থাকলেও, আক্রমণে দুই দলই ছিল প্রায় সমানে-সমান। গোলের জন্য ফরাসিদের ১২টি শটের চারটি ছিল লক্ষ্যে, সমান সংখ্যক শট নিয়ে স্বাগতিকরা লক্ষ্যে রাখতে পারে তিনটি।
প্রথম ১৫ মিনিটে দুই দলই বারবার অফসাইডের ফাঁদে পড়ছিল। সপ্তদশ মিনিটে প্রথম সুযোগটি পান এমবাপে। মাইকেল ওলিসের পাস বক্সে পেয়ে ফরাসি অধিনায়কের নিচু শট পোস্টের একটু বাইরে দিয়ে যায়। ২৮ মিনিটে ভালো একটি সুযোগ আসে তুরস্কের সামনে। কিন্তু আর্দা গুল্যারের চমৎকার ক্রস বক্সে পেয়ে হেড করেন ফের্দি কাদিয়োগলু। দুই মিনিট পর বারিস ইলমাজ বক্সে পড়ে গেলে পেনাল্টির আবেদন করে তুরস্ক, কিন্তু রেফারির সাড়া মেলেনি। ৪১ মিনিটে দারুণ সুযোগ পান ফ্রান্সের রায়ান শের্কি। উসমান দেম্বেলের পাস বক্সে পেয়ে শট নিতে একটু বেশি সময় নিয়ে ফেলেন তিনি এবং শেষ পর্যন্ত তার শট আটকে দেন প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার। একটু পর গোল প্রায় পেয়েই যাচ্ছিল সফরকারীরা। বক্সের বাইরে থেকে ওলিসের জোরাল শটে এক হাতে বল ক্রসবারের ওপর দিয়ে পাঠান তুরস্কের গোলরক্ষক। দ্বিতীয়ার্ধের ষষ্ঠ মিনিটে দুর্দান্ত সেভে ফ্রান্সকে রক্ষা করেন মাইক মিয়াঁ। গুল্যারের কর্নারে বক্সে অরক্ষিত ইউকসেকের হেডে এক হাতে বল ক্রসবারের ওপর দিয়ে পাঠান তিনি।
অবশেষে ৫৪ মিনিটে ‘ডেডলক’ ভাঙে। প্রতিপক্ষের থেকে আলগা বল পেয়ে ওলিসে পাস দেন এমবাপের উদ্দেশ্যে। বক্সের মুখে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জোরাল শটে কাছের পোস্ট দিয়ে জালে পাঠান রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড। ফ্রান্সের রেকর্ড গোলস্কোরার এমবাপের গোল হলো ৬৭টি, ১০৭ ম্যাচে। কিন্তু ঠিকমতো উদযাপনও করতে পারেননি তিনি। হাঁটু চেপে ধরে থাকতে দেখা যায় তাকে। পরে বসে পড়েন মাটিতে। প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েও আর খেলা চালিয়ে যেতে পারেননি ২৭ বছর বয়সি তারকা।
৭৮ মিনিটে ওলিসের বদলি নামা বাহডলে বাহকোলা শেষ দিকে দারুণ একটি সুযোগ পান। পোস্ট ছেড়ে বক্সের বাইরে বেরিয়ে এসে তার প্রচেষ্টা শুয়ে পড়ে রুখে দেন তুরস্কের গোলরক্ষক। রিপ্লেতে দেখা যায়, হাত দিয়ে বল স্পর্শ করেছিলেন তিনি, ফলে গোলের নিশ্চিত সুযোগ নষ্ট হয়। ভিএআর পর্যালোচনার পর তাকে লাল কার্ড দেখান রেফারি। নির্ধারিত সময়ের তিন মিনিট বাকি থাকতে ১০ জনে পরিণত হওয়ার পর ম্যাচে ফেরার মতো কিছু করতে পারেনি তুরস্ক।


