নাগোয়ায় এশিয়ান গেমসে ভারতীয় মহিলা হকি দল তাদের বিধ্বংসী ফর্ম বজায় রেখে গ্রুপ পর্বে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিয়েছে। বুধবার জাপানের কাকামিগাহারায় পুল-বি ম্যাচে থাইল্যান্ডকে ২০-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে ভারত সেমিফাইনালের পথে পা বাড়িয়ে রাখল। প্রথম ম্যাচ থেকে প্রতিপক্ষকে গোল বন্যায় ভাসিয়ে দেওয়া ভারতীয় মেয়েরা ৩ ম্যাচে সর্বমোট ৫৬টি গোল করে পুল-বি এর শীর্ষস্থান মজবুত করেছে।
সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিলেন ভারতের উদীয়মান ফরোয়ার্ড এবং ড্র্যাগ-ফ্লিক বিশেষজ্ঞ দীপিকা সেহরাওয়াত। থাইল্যান্ডের রক্ষণভাগকে একাই ধ্বংস করে তিনি ম্যাচে ৯টি গোল করেন। এর মাধ্যমে যেকোনো এশিয়ান গেমস হকি ম্যাচে (পুরুষ ও মহিলা উভয় বিভাগ মিলিয়ে) সবচেয়ে বেশি গোল করার ঐতিহাসিক ভারতীয় রেকর্ড গড়লেন তিনি। অবিশ্বাস্যভাবে তাঁর সবকটি গোলই এসেছে পেনাল্টি কর্নার থেকে। এই টুর্নামেন্টে ৩ ম্যাচ শেষে তাঁর মোট গোল সংখ্যা দাঁড়াল ২০টি।
হরেন্দ্র সিংয়ের প্রশিক্ষণে থাকা ভারতীয় দল প্রথম মিনিট থেকেই থাইল্যান্ডের ওপর চড়াও হয় এবং পুরো ম্যাচে ৬১% বল পজিশন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখে। প্রথম কোয়ার্টার করে ছয় গোল। প্রথম ১০ মিনিটেই হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন দীপিকা। এরপর নবনীত কৌর এবং রুতুজা পিসাল গোল করলে প্রথম কোয়ার্টারেই ভারত ৬-০ তে এগিয়ে যায়।দ্বিতীয় কোয়ার্টারে ১১ গোল হয়। এই কোয়ার্টারে আরও ৫টি গোল করে হাফ-টাইমের আগেই স্কোরলাইন ১১-০ করে ফেলে টিম ইন্ডিয়া।
তৃতীয় কোয়ার্টারেও আক্রমণের গতি সচল রেখে আরও ৫টি গোল তুলে নেয় ভারত। আর শেষ কোয়ার্টারে ভারত ৪টি গোল করে ২০ গোলের কোটা পূর্ণ করে। তবে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে থাইল্যান্ডের সুপানসা সামানসো পেনাল্টি কর্নার থেকে সান্ত্বনাসূচক একমাত্র গোলটি করতে সক্ষম হন।
গোলদাতাদের তালিকায় দীপিকা ৯টি গোল (সবকটি পেনাল্টি কর্নার থেকে), নবনীত কৌর ৪টি, গোলরুতুজা দাদাসো পিসাল ৩টি গোল(হ্যাটট্রিক) সহ নেহা, লালরেমসিয়ামি, সাক্ষী রানা এবং অধিনায়ক সালিমা টেটে ১টি করে গোল করেন।
পুল-বি তে টানা তিন ম্যাচে দুই অঙ্কের ঘরে গোল (উজবেকিস্তানকে ১৯-০, ইন্দোনেশিয়াকে ১৭-১ এবং থাইল্যান্ডকে ২০-১) রয়েছে ভারতের। ভারতীয় দলের মূল লক্ষ্য ১৯৮২ সালের পর প্রথমবার এশিয়াডে সোনা জিতে সরাসরি ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের টিকিট নিশ্চিত করা। সেই লক্ষ্যে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর ভারতীয় সময় সকাল ৭:৩০ মিনিটে পুলের সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ ও আয়োজক দেশ জাপানের মুখোমুখি হবে ভারত।


