তিন ম্যাচে ২ জয় ও ১ ড্রয়ে গ্রুপের শীর্ষে ‘ব্লু কোল্টস’। আজারবাইজানের বাকুর হোভসান কম্পিটিশন কমপ্লেক্সে আয়োজিত উদ্বোধনী ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যালে দুর্দান্ত ছন্দে এগিয়ে চলেছে ভারত। কোচ বিবিয়ানো ফার্নান্ডেজের প্রশিক্ষণে প্রথম তিনটি ম্যাচ খেলে ২টি জয় ও ১টি ড্র নিয়ে মোট ৭ পয়েন্ট সংগ্রহ করে গ্রুপ ‘কে’-র শীর্ষে রয়েছে। টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় দিনে ক্যামেরুনকে হারানোর পর, নাটকীয় ম্যাচে গ্রেনাদার সঙ্গে ড্র করে নিজেদের অপরাজিত তকমা ধরে রেখেছে ভারতীয় যুবারা।
ফিফার বিশেষ নিয়মে আয়োজিত (৪০ মিনিটের ম্যাচ, প্রতি দলে ৮ জন খেলোয়াড়) এই টুর্নামেন্টে ভারত চমক দেখায়।
টুর্নামেন্টের প্রথম দিনেই লাওসকে ৪-২ গোলে উড়িয়ে দিয়ে স্বপ্নের সূচনা করে ভারত। ম্যাচের ৭ মিনিটে ম্যাকডোনিশ এনগাইরাংবামের গোলে ভারত এগিয়ে গেলেও লাওস দ্রুত সমতা ফেরায়। এরপর ভারতের অধিনায়ক আর লালরেমরুতফেলা গোল করে দলকে আবার এগিয়ে দেন। দ্বিতীয় অর্ধে লাওস ম্যাচটি ২-২ করলে কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু শেষ ১০ মিনিটে বিধ্বংসী রূপ নেয় ভারত। ৩১ মিনিটে লালরেমরুতফেলা নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন এবং ৩৩ মিনিটে ডিফেন্ডার সৌম্যজিৎ সরকার হাফ-ওয়ে লাইনের কাছ থেকে এক অবিশ্বাস্য দূরপাল্লার শটে গোল করে ভারতের ৪-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন।
রবিবার টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় ম্যাচে আফ্রিকার অন্যতম শক্তিশালী দেশ ক্যামেরুনকে ২-১ গোলে হারিয়ে বড় চমক দেয় ভারত। বৃষ্টির মধ্যে শুরু হওয়া এই ম্যাচের প্রথম মিনিটেই দীপক সিং আরামবামের কর্নার কিক ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে দেন ক্যামেরুনের ডিফেন্ডার ফরেল এনগোবো। আত্মঘাতী গোলে ভারত এগিয়ে যাওয়ার পর ২০ মিনিটে ভারতেরই সোখিল খানের আত্মঘাতী গোলে সমতায় ফেরে ক্যামেরুন। তবে দ্বিতীয় অর্ধে (২৭ মিনিটে) ভারতের অধিনায়ক আর লালরেমরুতফেলা চমৎকার ফিনিশিংয়ে জয়সূচক গোলটি করেন। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ক্যামেরুন একটি পেনাল্টি পেলেও ভারতের গোলরক্ষক জেনিত নিংথৌজাম তা দুর্দান্তভাবে সেভ করে ভারতের জয় অক্ষুণ্ন রাখেন।
রবিবার বিকালেই নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে গ্রেনাদার মুখোমুখি হয়েছিল ভারত। ম্যাচটি ৩-৩ গোলে ড্র হলেও ভারতীয় শিবিরের জন্য এটি ছিল কিছুটা হতাশাজনক, কারণ ম্যাচের শেষ ১১ মিনিট বাকি থাকা পর্যন্ত ভারত ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল। ভারতের পক্ষে ম্যাচের ৩ মিনিটে ম্যাকডোনিশ, ২২ মিনিটে সি লালহমিংগ্রোপুইয়া এবং ২৯ মিনিটে রোনান্দেভ আহেইবাম গোল করে চালকের আসনে বসিয়েছিল। কিন্তু এরপর মাত্র ৬ মিনিটের এক ঝড়ে (৩১ থেকে ৩৭ মিনিটের মধ্যে) গ্রেনাদার জয়ওয়ার্নি নোয়েলের জোড়া গোল এবং কাই উইলসনের দূরপাল্লার শটে ম্যাচটি ৩-৩ স্কোরে শেষ হয়। পয়েন্ট হাতছাড়া হলেও টুর্নামেন্টে অপরাজিত রয়েছে ‘ব্লু কোল্টস’রা।
নক-আউটের টিকিট নিশ্চিত করতে গ্রুপ পর্বের শেষ দিনে সোমবার ভারত তাদের বাকি দুটি ম্যাচে যথাক্রমে বাহরিন ও সেনেগালের মুখোমুখি হবে। এই ৫টি ম্যাচের সামগ্রিক ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারিত হবে ভারত পরবর্তী নক-আউট পর্বের শীর্ষস্তরের ‘টিয়ার-এ’-তে জায়গা করে নিতে পারবে কি না।


