বিশ্বকাপে সাড়া জাগানো গোলকিপারকে তুমুল উল্লাস ও উন্মাদনায় স্বাগত জানানো হয় চিলিতে। ৪০ বছর বয়সে ভজিনিয়ার নতুন অধ্যায় শুরু হলো ল্যাটিন দেশে। ভজিনিয়াকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরেই উপস্থিত ছিলেন শত শত মানুষ। তার নাম ধরে চিৎকার আর উল্লাসে স্বাগত জানানো হলো তাকে। তিনিও হাত নেড়ে জবাব দিলেন অভিনন্দনের। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতেই ফুটে উঠছিল, ভজিনিয়াকে ঘিরে উন্মাদনার ঢেউ এখন কতটা তীব্র! মাস দুয়েক আগেও বিশ্ব ফুটবলের অপরিচিত এক নাম ছিলেন তিনি। চিলির ফুটবলেও তাকে চেনার কোনো কারণ ছিল না। সেই তিনিই এখন সেনসেশন। কেইপ ভার্ডের হয়ে বিশ্বকাপে তোলপাড় তোলা গোলকিপার ক্যারিয়ারের নতুন অভিযান শুরু করছেন চিলির ক্লাব কোলো-কোলোতে। এই ক্লাবে তার পাড়ি জমানোর ঘোষণা এসেছিল কদিন আগেই। চিলিতে পৌঁছানোর পর চুক্তির আনুষ্ঠানিকতা ও মেডিকেলও সম্পন্ন হলো। সামাজিক মাধ্যমে ক্লাবটি জানায়, “চুক্তিতে স্বাক্ষর করে আনুষ্ঠানিকভাবে কোলো-কোলোর নতুন খেলোয়াড় হয়ে গেলেন ভজিনিয়া।” ৪০ বছর বয়সী গোলকিপারের সঙ্গে কোলো-কোলোর প্রাথমিক চুক্তি ছয় মাসের। পরে তা আরও এক বছর বাড়ানোর সুযোগ আছে। নতুন ক্লাবে অবশ্য নাম জটিলতা তৈরি হয়েছিল তাকে নিয়ে। তার জজিমার জোজে এভোদা দিয়াস। তবে পরিচিত তিনি ডাক নাম ‘ভজিনিয়া’ দিয়ে। পর্তুগিজ ভাষায় নামের অর্থ ‘ছোট্ট দাদি।’ ছেলেবেলায় তিনি যখন রাস্তায় ফুটবল খেলতেন, অনেক সময় হেরে গিয়ে কাঁদতেন এবং রাগে বাড়িতে ফিরে যেতেন দাদা-দাদির। তাদের সঙ্গেই তিনি থাকতেন। মজা করে তখন ফুটবল খেলার সঙ্গীরা তাকে এই নাম দিয়েছিলেন, যেটি তার সঙ্গে রয়ে যায় এবং এখন তাকে এই নামেই গোটা ফুটবল বিশ্ব চেনে। তবে চিলির নিয়ম অনুযায়ী, জার্সির পেছনে ডাক নাম রাখা যায় না। তবে কোলো-কোলো বিশেষভাবে অনুরোধ জানায় এই নামটি রাখতে এবং অন্য সব ক্লাব এতে রাজি হওয়ায় জটিলতা কেটে যায়। চিলিয়ান সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আগামী ১৬ অগাস্ট অভিষেক হতে পারে তার নতুন ক্লাবের হয়ে। ২০০৭ সালে পেশাদার ক্যারিয়ার শুরু করা ভজিনিয়া খেলেছেন অ্যাঙ্গোলা, সাইপ্রাস, মলদোভা, স্লোভাকিয়া ও পর্তুগালের বিভিন্ন ক্লাবে। সবশেষ ছিলেন পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব শেভাসে। সেখানে তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হয় গত জুনে। সেই চুক্তি নবায়ন না করার ঘোষণা দেওয়ায় ক্লাববিহীন থেকে বিশ্বকাপে যান তিনি। বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে তার অসাধারণ পারফরম্যান্সে কেইপ ভার্ড ড্র করে স্পেনের সঙ্গে। রাতারাতি তিনি হয়ে ওঠেন সেনসেশন। তার ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ার ছিল ৫০ হাজারের মতো। স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচের পর তা হয়ে যায় ১ কোটি ৭৪ লাখ! এখন তার ফলোয়ার প্রায় তিন কোটি। স্পেনের পর উরুগুয়ে ও সৌদি আরবের বিপক্ষেও ড্র করে গ্রুপ পর্ব পার করে ফেলে বিশ্বকাপে অভিষিক্ত ছোট্ট দেশটি। নকআউট পর্বেও আর্জেন্টিনাকে কাঁপিয়ে দিয়ে শেষ পর্যন্ত হেরে যায় তারা ৩-২ গোলে। প্রতিটি ম্যাচেই অসাধারণ পারফর্ম করেন ভজিনিয়া এবং চার ম্যাচ খেলেই জায়গা করে নেন বিশ্বকাপের সেরা একাদশে।


