সোনাইছড়ি’তে সোনার মেয়ে। বিলোনিয়ার রাজপথ ভাসল ফুল আর আশীর্বাদের বন্যায়। ঘরে ফিরলেন অস্মিতা। গ্লাসগো জয়ী বরণে জনসমুদ্র, আবেগে কাঁপল জন্মভূমি।অবশেষে ঘর আলো করে এলেন দেশের রত্ন। যার গলায় ঝুলছে তেরঙা গর্ব, যার পায়ের স্পর্শে ধন্য হলো মাতৃভূমি। কমনওয়েলথে সোনা জয়ী অস্মিতা দে বুধবার বিকেল পাঁচটায় পা রাখতেই বিলোনিয়াবাসী তাকে ভাসিয়ে দিল আবেগের সাগরে।
ঘড়ির কাঁটা যেন থমকে গিয়েছিল। আগরতলা থেকে ফেরা “সোনার মেয়ে” যখন তবলা চৌমুহনী ছুঁলো, তখনই রাজপথ রূপ নিল উৎসবের রং-এ। হুড খোলা গাড়িতে অস্মিতা, আর তার চারপাশে মানুষের অটল দেওয়াল।
রাস্তার দুই ধার যেন হয়ে উঠেছিল ফুল আর আশীর্বাদের গালিচা। কারো হাতে জাতীয় পতাকা ঢেউ খেলছে, কারো গলায় উলুধ্বনি, কারো হাতে শঙ্খের জয়ধ্বনি। গ্যারেজ টিলা থেকে বনকর, বিদ্যাপীঠ চৌমুহনী থেকে হাসপাতাল রোড, এক নম্বর টিলা ছুঁয়ে রাজীব কর্ণার – প্রতিটি মোড়ে মোড়ে একই ছবি। একটু ছোঁয়ার আকুতি, একটু দেখার ব্যাকুলতা। করমর্দন করতে গিয়ে অনেকে বাক্যহারা। বয়স্কদের অনেকের চোখের কোল বেয়ে টুপুস করে গড়িয়ে পড়ছে জল। আনন্দ একটাই – ‘আমাদের মেয়ে বিশ্ব জয় করে এসেছে’। গন্তব্য ছিল দক্ষিণ সোনাইছড়ি। যেখানে তার শৈশবের ধুলোমাখা স্মৃতি ঘুমিয়ে আছে। স্কুল মাঠে তখন জনসমুদ্র। বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলের মালা, উত্তরীয় আর বুকভরা ভালোবাসায় বরণ করা হলো জেলার গর্বকে।সংবর্ধনার মঞ্চে দাঁড়িয়ে আবেগ সামলাতে পারেননি অস্মিতা। স্বর্গবাসী বাবার কথা মনে পড়তেই চোখ ভিজে উঠল। কাঁপা গলায় তিনি বললেন, ‘মনের একাগ্রতা আর ইচ্ছাশক্তি যদি প্রখর থাকে, নিজেকে গড়ে তোলা যায়। তবে সকলের সহযোগিতা ছাড়া কিছুই সম্ভব নয়’।
এই কটি কথাই যেন হাজার প্রদীপ জ্বালিয়ে দিল উপস্থিত সকলের মনে। অনুষ্ঠান শেষে তিনি গেলেন সেই উঠোনে, যেখানে একদিন হামাগুড়ি দিয়ে বড় হয়েছেন। স্মৃতির সরণি বেয়ে পৌঁছালেন নিজের ভিটেয়। কিছুক্ষণ কাটালেন জন্মভিটের বাতাসে।উল্লেখ্য, গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসের জুডোর ৪৮ কেজি বিভাগে সোনা জিতে অস্মিতা শুধু ভারতের মুখ উজ্জ্বল করেননি, দক্ষিণ জেলার নামও খোদাই করে দিয়েছেন বিশ্ব মানচিত্রে। সংবর্ধনা পর্ব শেষে রাতের ঠিকানা বিলোনিয়া সার্কিট হাউস। একটা মেয়ে প্রমাণ করে দিল, ছোট্ট শহরের মাটি থেকেও জন্ম নিতে পারে বিশ্বজয়ীর গল্প। বিলোনিয়ার গর্ব অস্মিতা – সকলের প্রেরণার মশাল।


