অস্মিতা জমি ও ১০ লক্ষ টাকা দিলো ত্রিপুরা সরকার

Date:

Share post:

সদ্য সমাপ্ত গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে জুডোর ৪৮ কেজি বিভাগে দেশের হয়ে স্বর্ণ পদক জয় করায় রাজ্যের সোনার মেয়ে অস্মিতা দে-কে জমির কাগজ ও ১০ লক্ষ টাকা দিলো ত্রিপুরা সরকার। যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তর এবং ত্রিপুরা জুডো এসোসিয়েশন-এর উদ্যোগে বুধবার রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জমি ও চেক তুলে দেয়া হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা, যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া মন্ত্রী টিংকু রায়, আগরতলা পুরনিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, অলিম্পিয়ান পদ্ম শ্রী জিমনাস্টিক দীপা কর্মকার প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অস্মিতা বলেন, “কমনওয়েলথ গেমসে আমার প্রথম স্বর্ন পদক এটি। ত্রিপুরায় এসে আমি খুব খুশি, আমার পরিবারের সাথে সময় কাটাতে পারবো”। তিনি আরও বলেন, “বর্তমান সময়ে রাজ্যের ক্রীড়ার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গুলো উন্নয়ন হয়েছে”। ছাত্র জীবনে প্রশিক্ষণ নেওয়া কোচদের প্রশংসা করেন অস্মিতা। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জমি দেওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অস্মিতা বলেন, “আমার পরিবারের থাকার জায়গা ছিলো না, জমি দেওয়ার ফলে অনেক উপকার হয়েছে”। তরুণ খেলোয়াড়দের সাফল্য পেতে শৃঙ্খলা বজায় রেখে কোচদের প্রতি সন্মান দেওয়া দায়িত্ব ও কর্তব্য বলেও উল্লেখ করেন।
মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা বলেন, এতো দিন ‘সোনার মেয়ে’ নামে দীপা কর্মকার পরিচিতি ছিলো। রাজ্যে বর্তমানে আরো একজন ‘সোনার মেয়ে’ নামে পরিচয় পেলো – অস্মিত দে। তিনি বলেন, অস্মিতার সাথে কথা বলেই তাকে জমি দেওয়া হয়েছে। রাজ্যে প্রতিভার অভাব নেই, শুধু খুঁজে বের করতে হবে। যেটা কোচরা খুঁজে বের করছে। অস্মিতা স্বর্ণ পদক অর্জন করায় পুরো ভারতবর্ষ খুশী। খেলোয়াড়দের সফল হতে গেলে জেদ থাকতে হবে। রাজ্যে অত্যাধুনিক খেলার পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে।
এরাজ্যের কৃতি খেলোয়াড়দের নামে বিভিন্ন মাঠের নাম দেওয়া হয়েছে। শুধু পড়াশোনা করে কিছু হবে না, খেলাধূলার সাথে যুক্ত হতে হবে৷ খেলাধূলার মাধ্যমে নিজেকে গড়ে তোলা যায়”।
ক্রীড়ামন্ত্রী টিংকু রায় বলেন, ২০১৮-এর পর রাজ্যে ক্রীড়া জগৎ-এ উন্নয়ন হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী একজন ক্রীড়াবিদ। দীপা কর্মকারের প্রশিক্ষণের সময় রাজ্যে দুটি ইন্ডোর হল ছিলো আগরতলা এবং বিলোনিয়াতে। বর্তমানে অনেক গুলো ইন্ডোর হল হয়েছে। ফলে খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ নিতে সুবিধা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, রাজ্য সরকার খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করতে নানা স্কিমের মধ্য দিয়ে পুরস্কারের পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা করে চলেছে। যেটা অতীতে ছিলো না। অস্মিতাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ক্রীড়ামন্ত্রী বলেন, অস্মিতা-কে দেখে যুবক-যুবতীরা খেলার প্রতি আরো আগ্রহী হবে।
অনুষ্ঠানে এছাড়া ছিলেন, অস্মিতার কোচ যশপাল সোলাঙ্কি, ক্রীড়া সচিব তাপস রায়, অধিকর্তা এল. ডার্লং।
এর আগে বিমানবন্দরে অস্মিতা-কে স্বাগত জানান ক্রীড়ামন্ত্রী সহ খেলোয়াড়রা ও শাসক দলের যুব কর্মীরা। হুড খোলা গাড়িতে করে আনা হয় গীতাঞ্জলি গেস্ট হাউসে। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের পর অস্মিতা সোজা চলে যান বিলোনিয়ায় দক্ষিণ সোনাইছড়িতে নিজ বাড়িতে। সেখানেও তাকে পৃথক অনুষ্ঠানে সংবর্ধনা দেয়া হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

Related articles

অতিরিক্ত সময়ের গোলর কল্যান সমিতি সেমিফাইনালে

অতিরিক্ত সময়ের গোলর কল্যান সমিতি সেমিফাইনালে গেলো। ২-১ গোলে হারালো টাউন ক্লাবকে। নীলজ্যোতি রাখাল শিল্ডের লড়াইয়ে শুরুতে ৩১...

ফাইনালে সদর ‘এ’ খেলবে উদয়পুরের সাথে

রাজ্যস্তরের অনূর্ধ্ব ১৫ ক্রিকেটের ফাইনালে সদর 'এ' খেলবে উদয়পুরের বিরুদ্ধে। ২০ আগস্ট হবে আসরের ফাইনাল ম্যাচ। মঙ্গলবার আসরের...

দ্বিতীয় জয় পেলো লংতরাইভ্যালি

রাজ্যস্তরের সিনিয়র ক্রিকেটের প্লেট গ্রুপে দ্বিতীয় জয় পেলো লংতরাইভ্যালি। ৫৪ রানে হারালো কাঞ্চনপুরকে। এম বি বি স্টেডিয়ামে এম্যাচে...

সেমিফাইনালে উঠলো বিন্দাস বয়েজ

বিলোনিয়ায় ওরিয়েন্টাল ক্লাব আয়োজিত প্রাইজমানি নকআউট ফুটবল প্রতিযোগিতায় সেমিফাইনালে উঠলো বিন্দাস বয়েজ। তীব্র উত্তেজনা পূর্ণ প্রথম সেমিফাইনালে ইয়ুথ...