এশিয়ান গেমসে ভারতীয় কাবাডি দল এক ঐতিহাসিক ‘গোল্ডেন ডাবল’ সাফল্যের সাথে শেষ করেছে। টোকাই সিটিজেন জিমনেসিয়ামে অনুষ্ঠিত হাইভোল্টেজ ফাইনালে ভারতের পুরুষ ও মহিলা – উভয় দলই তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইরানকে হারিয়ে এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখেছে। অধিনায়ক সুনীল কুমারের নেতৃত্বে ভারতীয় পুরুষ কাবাডি দল শক্তিশালী ইরানকে ৪০-৩৪ পয়েন্টের ব্যবধানে হারিয়ে রেকর্ড নবমবারের মতো এশিয়ান গেমসে সোনা জিতল। ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল একে অপরকে টেক্কা দিচ্ছিল। ইরানের আমিরমোহাম্মদ জাফর দানেশের দুর্দান্ত অল-আউট রেইডের কারণে প্রথমার্ধে ভারত ১৭-১৮ পয়েন্টে সামান্য পিছিয়ে পড়ে। তবে শুরুতেই অধিনায়ক সুনীল কুমারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘সুপার ট্যাকল’ ভারতকে ম্যাচে টিকিয়ে রেখেছিল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে স্কোর ২০-২০ পয়েন্টে টাই থাকলেও, ভারতের রেইডার অর্জুন দেশওয়াল এবং দেবাঙ্ক দালাল আক্রমণাত্মক খেলা শুরু করেন। রক্ষণভাগে সুমিত ও জয়দীপের চমৎকার ডিফেন্সের ওপর ভর করে ভারত ইরানকে অল-আউট করে এবং ২৯-২৪ পয়েন্টে লিড নেয়। শেষ মুহূর্তে আসলাম ইনামদারের রেইড ও রাহুল সেথপালের ট্যাকল ভারতের ৪০-৩৪ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করে। এটি পুরুষ দলের নবম এশিয়াড স্বর্ণ।
এদিকে, মহিলা দল চতুর্থ এশিয়াড স্বর্ণ পায়। পুরুষদের ফাইনালের কয়েক ঘণ্টা আগেই ভারতের মহিলা কাবাডি দল ইরানকে ৩৭-৩৪ পয়েন্টের রুদ্ধশ্বাস ব্যবধানে হারিয়ে দেশকে কাবাডি সোনাটি এনে দেয়। এটি এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে ভারতীয় মহিলাদের চতুর্থ কাবাডি স্বর্ণপদক। অধিনায়ক পুষ্পা রানার নেতৃত্বে ভারতীয় মহিলারা শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখেছিলেন। প্রথমার্ধে ভারত ২২-১৬ পয়েন্টে এগিয়ে থেকে স্বস্তিদায়ক ব্যবধান তৈরি করে। দ্বিতীয়ার্ধে ইরান ১৮-১৫ পয়েন্ট তুলে নিয়ে এক ভয়ংকর প্রত্যাবর্তন করার চেষ্টা করলেও, ভারতীয় রেইডারদের সংযম ও দক্ষতার কারণে শেষ পর্যন্ত ৩৭-৩৪ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে ভারত।
১৯৯০ সালে এশিয়ান গেমসে পুরুষ কাবাডি এবং ২০১০ সালে মহিলা কাবাডি যুক্ত হওয়ার পর থেকে ভারত এই খেলায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে আসছে। কেবল ২০১৮ সালের জাকার্তা এশিয়ান গেমসে ইরান এই আধিপত্যে ধাক্কা দিয়েছিল (সেবার ইরান পুরুষ ও মহিলা উভয় বিভাগেই সোনা জিতেছিল)। তবে ২০২৩ হাংঝৌ এশিয়াডের পর, এবার ২০২৬ নাগোয়া এশিয়াডেও জোড়া সোনা জিতে ভারত প্রমাণ করল যে কাবাডিতে তারাই বিশ্বের সেরা পরাশক্তি। এই জোড়া সোনার ওপর ভর করে চলতি এশিয়ান গেমসে ভারত আবারও পদক তালিকার শীর্ষ ১০-এ ফিরে এসেছে।


