এশিয়ান গেমসে মহিলাদের ৪৮ কেজি জুডো বিভাগে অল্পের জন্য ব্রোঞ্জ পদক হাতছাড়া করলেন ভারতের উদীয়মান জুডোকা অস্মিতা দে। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর তিনি পঞ্চম স্থানে শেষ করেন। মেডেল না পেলেও এশিয়ার অন্যতম সেরা প্রতিদ্বন্দীদের বিরুদ্ধে তাঁর লড়াকু পারফরম্যান্স ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিককে কেন্দ্র করে ভারতের প্রত্যাশা বহুলাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে।
চলতি বছরের গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে ঐতিহাসিক সোনা জেতার পর, অস্মিতার ওপর পদক জয়ের ব্যাপক চাপ ছিল। এশিয়ান গেমসের ম্যাটে শুরুটা দুর্দান্ত করেছিলেন তিনি। রাউন্ড অফ ১৬’তে ভিয়েতনামের প্রতিযোগী এনগোক চি হাকে সরাসরি ‘ইপ্পন’-এর মাধ্যমে উড়িয়ে দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছান। কোয়ার্টার ফাইনালে বিশ্বের হেভিওয়েট কাজাখস্তানের প্রতিযোগী আবিবা আবুজাকিনোভার কাছে পরাস্ত হয়ে স্বর্ণপদকের দৌড় থেকে ছিটকে যান। পরে হাল না ছেড়ে রিপেশেজ রাউন্ডে হংকং-এর ওয়াং কা লি-কে গোল্ডেন স্কোরে ৪-০ ব্যবধানে পরাজিত করে ব্রোঞ্জের আশা বাঁচিয়ে রাখেন। ব্রোঞ্জ জয়ের নির্ণায়ক ম্যাচে মঙ্গোলিয়ার শক্তিশালী প্রতিপক্ষ নারাণ্টসেটসেগ গানবাতারের কাছে ‘ওয়াজা-আরি’ স্কোরে পরাজিত হন এবং পঞ্চম স্থানে থেকে অভিযান শেষ করেন।
পদক না পেলেও আন্তর্জাতিক জুডো মহলের মতে, অস্মিতার অলিম্পিক সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল। ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমসে ভারতকে প্রথম ঐতিহাসিক জুডো সোনা এনে দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন বড় মঞ্চের স্নায়ুর চাপ সামলানোর ক্ষমতা তাঁর রয়েছে। র্যাংকিং ও ধারাবাহিকতা এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপেও তিনি পঞ্চম স্থান অর্জন করেছেন। আন্তর্জাতিক জুডো ফেডারেশনের বিশ্ব র্যাংকিংয়ে তিনি শীর্ষ ৫০-এর মধ্যে উঠে এসেছেন। প্রযুক্তির উন্নতি জাপানের সুকুবা ইউনিভার্সিটিতে করা তাঁর উচ্চমানের ট্রেনিং এবং গ্রাউন্ড টেকনিক বা ‘নে-ওয়াজা’-র ধারালো ব্যবহার অলিম্পিক যোগ্যতামানের টুর্নামেন্টগুলোতে বেশ কার্যকরী ভূমিকা নেবে।
কঠিন আর্থিক অনটন এবং ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি (২০২৫ সালের শেষে পিতৃবিয়োগ) পেরিয়ে আসা অস্মিতার মূল লক্ষ্য এখন ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক। ভারত সরকারের ‘টার্গেট অলিম্পিক পোডিয়াম স্কিম’-এর অধীনে থাকায় আগামী দিনে আরও বেশি বিশ্বমানের এক্সপোজার পাবেন তিনি। এশিয়ান গেমসের এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আসন্ন ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ ও গ্র্যান্ড স্লামগুলোতে প্রয়োজনীয় পয়েন্ট তুলে অস্মিতা অলিম্পিকের মূল পর্বে পদকের জোরালো দাবিদার হয়ে উঠবেন, এটাই আশা ক্রীড়াপ্রেমীদের।


