পুরুষদের হকির রোমাঞ্চকর সেমিফাইনালে পাকিস্তানকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে ফাইনালে খেলার টিকিট কেটে নিলো ভারত। ম্যাচ শেষ হওয়ার ৪৯ সেকেন্ড আগে ভারতের জয় নিশ্চিত হলো অভিষেকের গোলে। ক্রিকেটের পাশাপাশি টেবিল টেনিস এবং হকিতেও ভারত ভারত চূর্ণ করে দিল পাকিস্তানের গরিমা। কিন্তু ভলিবলে দেখা গেল উল্টো চিত্র । কোয়ার্টার ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে সরাসরি ৩-০ সেটে হারতে হলো ভারতকে। ২৫-১৯, ২৫-২৩, ২৫-১৮ সেটে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হার হজম করতে হয় ভারতকে।
অন্যদিকে হকির সেমিফাইনালে ভারত রীতিমতো চমক দিয়ে দিল পাকিস্তানকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে। একইসঙ্গে ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করলো ভারত। ম্যাচের শুরু থেকেই দুরন্ত ছন্দে ছিলেন হরমনপ্রীত সিংরা। ৫ মিনিটে তিনিই ভারতকে ১-০ এগিয়ে দেন। ১৩ মিনিটে আরো ১টি গোল করেন হরমনপ্রীত । এর ১০ মিনিট পর স্কোর লাইন ৩-০ করেন সুখজিৎ সিং। একটা সময় মনে হয়েছিল ভারত একতরফা ম্যাচটা জিতে যাবে। ঠিক সেই মুহূর্তে পাকিস্তানের হয়ে ব্যবধান কমান আবু মাহমুদ। ৩০ মিনিটে গোল করেন তিনি। ৪৫ মিনিটে ফের হান্নান শাহিদের গোলে পাকিস্তানের স্কোর লাইন ৩-২ হয়। ৪৯ মিনিটে পাক দলকে ৩-৩ সমতায় ফেরান ওয়াহিদ আশরাফ রানা। এরপর ম্যাচটা রোমাঞ্চকর হয়ে ওঠে। খেলা শেষ হওয়ার ৪৯ সেকেন্ড আগে ফিল্ড গোল থেকে ভারতের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন অভিষেক। তবে ৩ গোলে এগিয়ে গিয়েও জয় পেতে কষ্ট করতে হয়েছে ভারতীয় দলকে। ফাইনালে নামার আগে ভারতের ডিফেন্স লাইনের এভাবে ছন্দ পতন যথেষ্ট চিন্তায় রাখবে টিম ম্যানেজমেন্টকে। পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার পর ভারতকে অভিনন্দন জানিয়েছে হকি ইন্ডিয়া।
অন্যদিকে ৬৪ বছর পর এশিয়াডের সেমিফাইনালে গেল পাকিস্তান। অন্যদিকে ভলিবলে ভারতের ৪৪ বছরের পদক জয়ের খরা কাটলো না। শেষবার ১৯৮৬ সালের এশিয়াডে ব্রোঞ্জ পেয়েছিল ভারত। তার আগে ১৯৬২ সালে রৌপ্য এবং ১৯৫৮ সালে ব্রোঞ্জ এসেছিল ভারতে। অর্থাৎ চার দশকের অপেক্ষার অবসান এবারও হল না। গ্রুপ পর্বে অবশ্য দুর্দান্ত ছন্দে ছিল ভারত। প্রতিটি ম্যাচ জিতেছিল
ভারত । কাতারের বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচেও ০-২ পিছিয়ে থেকে পরপর তিন সেট জিতে ম্যাচ বার করেছিল। কিন্তু নকআউটে এসে সেই ছন্দ ধরে রাখতে পারল না ভারত। পাকিস্তানের কাছে হেরে গেল ৩-০ সেটে। ম্যাচ শেষে অবশ্য ক্রিকেটের মতো কোনও ‘বিতর্কিত’ ছবি দেখা যায়নি। দুই দলের খেলোয়াড়েরা পরস্পরের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষ হয়েছে সৌহার্দ্যের। যদিও পদকের অপেক্ষা আরও বাড়ল।


