মেক্সিকো ম্যাচের আগে ও পরের ভাবনা বদলে গেছে অ্যালান শিয়েরারের! সত্যিই তাই। এই ইংলিশ কিংবদন্তি বিবিসিতে লেখা দীর্ঘ কলামে তুলে ধরেছেন, মেক্সিকো ম্যাচের পর তার এখন মনে হচ্ছে, কেইন, বেলিংহ্যামদের হাত ধরে ফিরে আসতে পারে বিশ্বকাপ জয়ের সুখস্মৃতি। প্রথম ও সবশেষ এই স্বাদ ইংল্যান্ড পেয়েছিল ১৯৬৬ সালে, ঘরের মাঠের আসরে। এরপর কেবল একের পর এক আসর এসেছে, চলে গেছে, কিন্তু ‘থ্রি লায়ন্স’রা কখনও গর্জে উঠতে পারেনি। হতাশাই সঙ্গী হয়েছে তাদের। উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের এবারের আসরেও টমাস টুখেলের দল নিয়ে খুব বেশি আশাবাদী ছিলেন না শিয়েররা। নিউক্যাসল ইউনাইটেডের এই কিংবদন্তি স্ট্রাইকারের সেই ভাবনা বদলেছে মেক্সিকোর বিপক্ষে ৩-২ গোলের রোমাঞ্চকর জয়ের পর। “মেক্সিকোর বিপক্ষে মহাকাব্যিক জয়ের পর সমর্থক থেকে শুরু করে খেলোয়াড়রা, সবাই নিশ্চয় এটাই ভাবছে, আমিও ভাবছি আমরা জিততে পারি – যদিও ম্যাচের আগে সত্যিই এমনটা মনে হয়নি আমরা। প্রতিবেদনে আরও লেখেন, “অবশ্যই আশা ছিল। বড় প্রতিযোগিতায় ইংল্যান্ডকে নিয়ে সবসময় আশা থাকে, কিন্তু মেক্সিকোর বিপক্ষে ওই পারফরম্যান্স আমাদের সবাইকে আরও এগিয়ে দিয়েছে এবং সবার মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও বিশ্বাস জুগিয়েছে।” সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অনেক উচুঁ আসতেকা স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের চোখে চোখ রেখে লড়াই করেছিল মেক্সিকো। সমর্থকরাও ছিল তাদের পাশে। কিন্তু হ্যারি কেইন- জুড বেলিংহ্যামদের নৈপুণ্যে সব বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছায় ইংল্যান্ড। সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তাদের সামনে এবার নরওয়ে। আর্লিং হলান্ডের নামের এক গোলমেশিনের কাঁধে সওয়ার হয়ে, এবারের আসরে যারা ছুটছে দুর্বার গতিতে। তবে, আসতেকার সাফল্যে উত্তরসূরিদের নিয়ে ভীষণ আশাবাদী শিয়েরার। “আসতেকা স্টেডিয়ামে যাওয়ার এবং সব প্রতিকূলতাকে যেভাবে ছেলেরা সামলেছে, সেগুলো দেখার আগে, আমি সত্যিই বিশ্বাস করতাম না যে, ইংল্যান্ড এবার বিশ্বকাপ জিততে পারবে। কিন্তু আমার মন বদলে গেছে এবং আমার মনে হয়, বাকি সবারও তাই হয়েছে”।


