স্যার গারফিল্ড সেন্ট অব্রান সোবার্স প্রয়াত। ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বকালের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার সাথে একটা যুগের অবসান হলো। ১৯৩৬ সালের ২৮ জুলাই বার্বাডোসে জন্মগ্রহণ করা এই কিংবদন্তি ক্রিকেটার ৮৯ বছর বয়সে মারা যান। ব্যাট, বল এবং ফিল্ডিং – ক্রিকেটের তিনটি বিভাগেই তাঁর অবিশ্বাস্য দক্ষতা তাঁকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল।
৩৬৫ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস। ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে স্যাবাইনা পার্কে তিনি অপরাজিত ৩৬৫ রানের ওই অনবদ্য ইনিংস খেলেন। এটি দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোরের বিশ্বরেকর্ড ছিল, যা পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালে ব্রায়ান লারা ভাঙেন।
১৯৬৮ সালে কাউন্টি ক্রিকেটে নটিংহ্যামশায়ারের হয়ে গ্ল্যামারগনের বোলার ম্যালকম ন্যাশের এক ওভারে তিনি টানা ৬টি ছক্কা মারেন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের ইতিহাসে এটিই ছিল প্রথম এক ওভারে ছয় ছক্কার রেকর্ড।
বোলার হিসেবে সোবার্স ছিলেন একাধারে বাঁহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম সুইং বোলার, আবার একই সাথে বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিন এবং রিস্ট স্পিনও করতে পারতেন। এছাড়া উইকেটের কাছাকাছি ক্যাচ ধরার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অত্যন্ত দক্ষ।
১৯৬৫ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত তিনি অত্যন্ত সফলতার সাথে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৩৮৩টি ম্যাচে তিনি ২৮,৩১৪ রান করেছেন এবং ১,০৪৩টি উইকেট শিকার করেছেন।
ক্রিকেটে অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৭৫ সালে তাঁকে ব্রিটিশ রাজপরিবার থেকে ‘নাইটহুড’ (স্যার) উপাধিতে ভূষিত করা হয়। ১৯৯৮ সালে বার্বাডোস সরকার তাঁকে দেশটির অন্যতম জাতীয় বীর হিসেবে ঘোষণা করে। আইসিসি তাদের প্রতিবছরের বর্ষসেরা পুরুষ ক্রিকেটারের পুরস্কারটি তাঁর নামানুসারে ‘স্যার গারফিল্ড সোবার্স ট্রফি’ হিসেবে নামকরণ করেছে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই মহান ক্রিকেট আইকনের বিদায়ের পর বিশ্বজুড়ে ক্রিকেট ভক্ত ও বিশিষ্টজনেরা তাঁকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছেন।


