শুরুর দিকেই গোলের দেখা পেল কলম্বিয়া। শেষ পর্যন্ত ওই গোলই গড়ে দিল ব্যবধান।গ্রুপ পর্বের মতো আক্রমণের ধারা ধরে রাখল তারা এই ম্যাচেও। কিন্তু গোল আর হলো না। আসল কাজটি করল তাদের রক্ষণ ভাগ। ঘানাকে হারিয়ে শেষ দল হিসেবে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিল কলম্বিয়া। বিশ্বকাপের ম্যাচটিতে শনিবার সকালে ঘানাকে ১-০ গোলে হারায় কলম্বিয়া। দ্বিতীয় রাউন্ডের শেষ ম্যাচ ছিল এটি। শেষ দল হিসেবে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেয় লাতিন আমেরিকার দলটি। বদলি খেলোয়াড় লুইস সুয়ারেসের ক্রস থেকে ১৪ মিনিটে গোল করেন আরিয়াস। কলম্বিয়ার সুশৃঙ্খল রক্ষণভাগ বাকি কাজটা শেষ করে। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে সামনে পাচ্ছে তারা সুইজারল্যান্ডকে। ‘কে’ গ্রুপে পর্তুগাল, উজবেকিস্তান এবং ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে অপরাজিত থেকে শীর্ষস্থান দখল করা সত্ত্বেও টুর্নামেন্টে কলম্বিয়া অনেকটাই প্রচারের আড়ালেই ছিল। এই ম্যাচে তাদের জয়টা আসে এমন দুজনের যুগলবন্দিতে, যাদের একসঙ্গে মাঠে থাকার কথা ভাবাই যায়নি। অষ্টম মিনিটে জন কর্দোভা কুঁচকির চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হলে সুয়ারেস মাঠে নামেন। তিনি ব্যাক পোস্টে একটি নিখুঁত ক্রস দেন, যেখানে আরিয়াস অরক্ষিত অবস্থায় ছিলেন। সঠিক জায়গায় শট নেওয়ার জন্য যথেষ্ট সময় ও জায়গা পেয়ে, আরিয়াস শান্তভাবে বলটিকে নীচের কোণায় পাঠিয়ে তার দলকে প্রাপ্য লিড এনে দেন। ক্যানসাস সিটি স্টেডিয়ামকে এ দিন মনে হচ্ছি কলম্বিয়ারই কোনো মাঠ। ৬০ ধাপ পিছিয়ে থাকা দল ঘানার সঙ্গে এই ম্যাচটিকে ঘরের মাঠের ম্যাচে পরিণত করে তুলেছিল হাজার হাজার কলম্বিয়া সমর্থক। দেশের বাইরেও এমন সমর্থন সচরাচর দেখা যায় না। গ্যালার ছিল যেন হলুদ জার্সি, ঘুরন্ত স্কার্ফ এবং সাদা-কালো সোমব্রেরো ভুয়েলতিয়াও টুপির এক উন্মত্ত, নৃত্যরত সমুদ্র। প্রচণ্ড গরম আর অসহনীয় তাপমাত্রাতেও তারা গলা ফাটিয়ে দলকে সমর্থন জুগিয়ে যায় ম্যাচজুড়ে। তারা একযোগে লাফিয়ে উঠছিল, প্রতিটি আক্রমণে দলকে গর্জন করে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল এবং নিয়মিত ‘ভামোস কলম্বিয়া! এস্তা নোচে তেনেমোস কে গানার!’ (চলো কলম্বিয়া, আজ রাতে আমাদের জিততেই হবে!) স্লোগান দিচ্ছিল।


