ব্রিস্টলের কাউন্টি মাঠে অনুষ্ঠিত চতুর্থ টি-২০ ম্যাচে ভারতকে ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই ৫ ম্যাচের টি-২০ সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে জিতে নিয়েছে ইংল্যান্ড। বৃষ্টির কারণে সিরিজের প্রথম ম্যাচটি পরিত্যক্ত হওয়ার পর, ইংল্যান্ড টানা তিনটি ম্যাচ জিতে ১২ বছর পর ভারতের বিরুদ্ধে প্রথম দ্বিপাক্ষিক টি-২০ সিরিজ জয় নিশ্চিত করল। আয়ারল্যান্ডের কাছে ০-২ ব্যবধানে হারের পর ইংল্যান্ডের কাছে এই পরাজয়ে টিম ইন্ডিয়া গত ৭ বছরের মধ্যে প্রথমবার টানা দুটি দ্বিপাক্ষিক টি-২০ সিরিজ হারল।
ভারতের ব্যাটিং বিপর্যয় ও শ্রেয়সের লড়াইটস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। তবে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে শুরুতেই চাপে পড়ে যায় তারা। বৈভব সূর্যবংশী, ইশান কিষাণ এবং অভিষেক শর্মা – টপ অর্ডারের তিন ব্যাটারই শর্ট বলের ফাঁদে পড়ে সস্তায় বিদায় নেন। একপ্রান্ত আগলে রেখে অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৯ বলে ৮০ রানের এক অনবদ্য অপরাজিত ইনিংস খেলেন, যার মধ্যে ছিল ৫টি ছক্কা ও ৪টি চার। স্পিনার আদিল রশিদের এক ওভারে দুটি ছক্কা ও একটি চার মেরে তিনি রান তোলার গতি বাড়িয়েছিলেন। কিন্তু অন্য ব্যাটারদের থেকে কোনো সহযোগিতা না পাওয়ায় ভারত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৫৮ রানের একটি মাঝারি স্কোর তুলতে সক্ষম হয়। ব্রুক ও সল্টের বিধ্বংসী ব্যাটিং ১৫৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইংল্যান্ডের শুরুটা ধীরগতির হলেও তারা ম্যাচটি পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। ওপেনার জস বাটলারকে মাত্র ৮ রানে আউট করে ভারত কিছুটা আশা জাগালেও, এরপর হ্যারি ব্রুক এবং ফিল সল্ট মিলে ভারতীয় বোলারদের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালান। দ্বিতীয় উইকেটে এই দুজনের অবিচ্ছিন্ন ১৪৬ রানের ম্যাচজয়ী পার্টনারশিপ ইংল্যান্ডকে মাত্র ১৩.৫ ওভারেই লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়। হ্যারি ব্রুক মাত্র ৩৫ বলে ৮টি চার ও ৪টি ছক্কার সাহায্যে বিধ্বংসী ৭৯ রান* করেন। ফিল সল্ট ৪২ বলে ৯টি চার ও ১টি ছক্কায় ৫৯ রান* করে অপরাজিত থাকেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড
ভারত: ২০ ওভারে ১৫৮/৭ (শ্রেয়স আইয়ার ৮০, শিবম দুবে ১৫, জফ্রা আর্চার ২/৩০) ইংল্যান্ড: ১৩.৫ ওভারে ১৫৯/১ (হ্যারি ব্রুক ৭৯, ফিল সল্ট ৫৯*, আরশদীপ সিং ১/২৪)
ফলাফল: ইংল্যান্ড ৯ উইকেটে জয়ী (৩৭ বল বাকি থাকতে)। ম্যাচ সেরা: হ্যারি ব্রুক।


