অনূর্ধ্ব ১৫ রাজ্যভিত্তিক ক্রিকেটের আসরে গ্রুপ লীগের চারটি ম্যাচে হেরে শূন্য হাতে শেষ করল সাব্রুম মহকুমা। অন্যদিকে অমরপুর মহকুমা আসরে দ্বিতীয় জয় পায়। বৃহস্পতিবার গ্রুপ লিগে নিজেদের শেষ ম্যাচে অমরপুর মহকুমার কাছে ৭ উইকেটে হেরে যায় সাব্রুম মহকুমা। এদিন তালতলা স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টসে জয়লাভ করে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে সাব্রুম ১২৩ রান করে। শুভদীপ দত্ত ৩৬ বলে ছয়টি বাউন্ডারির সাহায্যে ২৭, নয়ন দাস ৩৭ বলে তিনটি বাউন্ডারির সাহায্যে ১৭ এবং পিটার ত্রিপুরা ৫৩ বলে দুটি বাউন্ডারি সাহায্যে ১৩ রান করে। অমরপুর মহকুমার পক্ষে আবীর সাহা ১৭ রানে ৫টি এবং নীলাদ্রি শেখর দাস ৩২ রানে ৩টি উইকেট নেয় । জবাবে খেলতে নেমে অমরপুর ২৭.১ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে জয়ের প্রয়োজনীয় রান তুলে নেয়। কর্ণ জিৎ দাস ৬৭ বলে ছয়টি বাউন্ডারির সাহায্যে ৩৪, আদ্রিয়ান মালাকার ৪০ বলে দুটি বাউন্ডারির সাহায্যে ১৫, আবির সাহা ২৪ বলে দুটি বাউন্ডারির সাহায্যে ১৩ রান করে।
নেপকো মাঠে অনূর্ধ্ব ১৫ রাজ্যভিত্তিক ক্রিকেটের লড়াইয়ে কমলপুর মহকুমাকে ২১ রানে হারিয়ে দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে গেলো কৈলাসহর মহকুমা। এ দিন সকালে প্রথমে ব্যাট করার সুযোগ পেয়ে কৈলাসহর মহকুমা ৯৫ রান করতে সক্ষম হয়। অরুপ রুদ্র পাল ৮৯ বলে দুটি বাউন্ডারি ও একটি ওভার বাউন্ডারির সাহায্যে ২৩, রাজদীপ সিনহা ৩৮ বলে একটি বাউন্ডারির সাহায্যে ১১ এবং কিশান দাস ১৯ বলে একটি ওভার বাউন্ডারির সাহায্যে ১০ রান করে। কমলপুরের আরাধ্য দত্ত ১১ রানে এবং রাহুল সিনহা ২৩ রানে তিনটি করে উইকেট নেয় । জবাবে খেলতে নেমে কমলপুর মহকুমা ৭৪ রানে গুটিয়ে যায় । দলের পক্ষে ময়ূরাক্ষ দাস ৪৩ বলে একটি বাউন্ডারি ও দুটি ওভার বাউন্ডারি সাহায্যে ২৩ এবং কিশান দাস ১৭ বলে তিনটি বাউন্ডারির সাহায্যে ১৫ রান করে। কৈলাসহরের রাজদীপ সিনহা ১৬ রানে এবং তুষার মালাকার ২২ রানে তিনটি করে উইকেট দখল করে। ৫ ম্যাচ খেলে কৈলাসহর এবং কমলপুর মহকুমার পয়েন্ট ১০। কিন্তু রান রেটে কমলপুর মহকুমাকে (০.৬৪৮) পেছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থান দখল করে নেয় কৈলাসহর (০.৭৬০) মহকুমা।
জয় পেলেও রানের গড়ে পিছিয়ে থাকায় কোয়ার্টার ফাইনালে যেতে পারলো না বিশালগড় মহকুমা। মেলাঘরের শহীদ কাজল ময়দানে বৃহস্পতিবার বিশালগড় মহকুমা ৮ উইকেটে হারায় কাঞ্চনপুর মহকুমাকে। শূন্য হাতে আসর শেষ করলো কাঞ্চনপুর মহকুমা। এদিন সকালে টসে জয়লাভ করে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বিশালগড়ের বোলারদের সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে মাত্র ৩৫ রানে গুটিয়ে যায় কাঞ্চনপুর। প্রমিজ চাকমা ৩৪ বলে দুটি বাউন্ডারি সাহায্যে ১২ এবং প্রিয়ঙ্কর নাথ ১৫ বলে একটি বাউন্ডারির সাহায্যে ১০ রান করে। দলের আর কোনও ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কের রানে পা রাখতে পারেনি। বিশালগড়ের অনিকেত লস্কর ৪ রানে, মুস্তাকিন আল ফারহান ৬ রানে তিনটি করে এবং দ্বীপ শীল দুই রানে এবং আয়ুস দেবনাথ ৮ রানে দুটি করে উইকেট দখল করে। সহজ লক্ষ্যকে তাড়া করতে নেমে বিশালগড় মহকুমা ১৩ বলে ২ উইকেট হারিয়ে জয়ের প্রয়োজনীয় রান তুলে নেয়। দলের পক্ষে ওপেনার রুদ্র চৌধুরী ৯ বলে চারটি বাউন্ডারি ও একটি ওভার বাউন্ডারির সাহায্যে ২৮ রানে অপরাজিত থেকে যায়।
সন্দীপ রায় এবং দীপাঞ্জন দাসের দুরন্ত ব্যাটিং এবং বোলিংয়ের সুবাদে লংতরাই ভ্যালি ৯ উইকেটে হারায় গন্ডাছড়া মহকুমাকে। বৃহস্পতিবার আমতলী স্কুল মাঠে এদিন প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দীপাঞ্জন দাসের দুরন্ত বোলিংয়ের সামনে মাত্র ৯০ রানে গুটিয়ে যায় গন্ডাছড়া । রেহাইন মন্ডল ৬৫ বলে চারটি বাউন্ডারির সাহায্যে ২৩ রান করে। দলের আর কোনও ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কের রানে পা রাখতে পারেনি। লংতরাই ভ্যালির দীপাঞ্জন দাস ১৬ রানে ৪টি, শুভজিৎ বড়ুয়া ১৬ রানে এবং সায়নদ্বীপ সরকার ১৭ রানে দুটি করে উইকেট নেয় । জবাবে খেলতে নেমে লংতরাই ভ্যালি মহকুমা ৬৮ বলে ১ উইকেট হারিয়ে জয়ের প্রয়োজনীয় রান তুলে নেয়। ওপেনার সন্দীপ রায় ৪৫ বলে সাতটি বাউন্ডারি ও তিনটি ওভার বাউন্ডারির সাহায্যে ৫৪ এবং মেঘ দেববর্মা ৯ বলে দুটি বাউন্ডারির সাহায্যে ১১ রানে অপরাজিত থেকে যায়।


