গুয়াহাটিকে বিশ্বের পর্যটন ও ক্রীড়ার মানচিত্রে পুনরায় এক উজ্জ্বল স্থান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে আগামী বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে গুয়াহাটি আন্তর্জাতিক ম্যারাথন। আজ হোটেল রেডিসনে ক্রিকেট কিংবদন্তি সুনীল মনোহর গাভাস্কারের উপস্থিতিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এই ঘোষণা করেন। এই ম্যারাথনের প্রোমোটার হিসেবে থাকবে পিএমজি স্পোর্টস এলএলপি।
দেশ-বিদেশের ১২ হাজারেরও বেশি দৌড়বিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হতে চলা এই ম্যারাথনের ঘোষণা করার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী ড. শর্মা ম্যারাথনের লোগোও আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করেন। জাঁকজমকপূর্ণ এই অনুষ্ঠানের পর আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী ড. শর্মা বলেন, “গুয়াহাটিতে আন্তর্জাতিক ম্যারাথন আয়োজন করা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। এর মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়াক্ষেত্রে গুয়াহাটির উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটবে। এর ফলে ক্রীড়া পর্যটন, ফিটনেস প্রভৃতি ক্ষেত্রেও রাজ্যের বৃহত্তম শহরটি একটি স্বতন্ত্র মর্যাদা লাভ করবে। একই সঙ্গে পর্যটন ও ক্রীড়া রাজ্যে নতুন উদ্দীপনা নিয়ে আসবে।”
অন্যদিকে সাংবাদিক সম্মেলনে কিংবদন্তি ক্রিকেটার সুনীল গাভাস্কার বলেন, “দৌড়ের মধ্য দিয়ে সংহতি ও সমন্বয়ের সৃষ্টি হয়। এর মাধ্যমে ক্রীড়া, পর্যটন ও সংস্কৃতির এক অপূর্ব মেলবন্ধন ঘটে। এমন একটি মাধ্যমের সাহায্যে অসমকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য গ্রহণকারী অসমের প্রিয় মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা প্রশংসার দাবিদার। সেই লক্ষ্যেই এই আন্তর্জাতিক ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হবে। এর মাধ্যমে গুয়াহাটিকে সমগ্র বিশ্বের আকর্ষণের কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।” এমন সুপরিকল্পিত উদ্যোগের জন্য মুখ্যমন্ত্রী ড. শর্মার ভূয়সী প্রশংসা করেন বিশিষ্ট ক্রিকেটার গাভাস্কার।
অসম পর্যটন উন্নয়ন নিগমকে মুখ্য সহযোগী হিসেবে নিয়ে আয়োজিত এই ম্যারাথনে সহযোগী হিসেবে থাকবে টপসেম সিমেন্টস লিমিটেড। মোট ১.২৫ কোটি টাকা পুরস্কারমূল্য সম্বলিত এই প্রতিযোগিতার প্রথম ‘বিব’ আজ মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মার হাতে তুলে দেন সুনীল গাভাস্কার। এর মধ্য দিয়েই ম্যারাথনে অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধন প্রক্রিয়াও শুরু হয়।
এই প্রতিযোগিতায় ৪২.১৯৫ কিলোমিটারের পূর্ণ ম্যারাথন ছাড়াও আরও চারটি বিভাগ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিভাগগুলি হল— হাফ ম্যারাথন, ১০ কিলোমিটার, ৫ কিলোমিটার এবং ১.৫ কিলোমিটারের ‘ফান রান’। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতিযোগিতার ওয়েবসাইটে নিবন্ধন শুরু হবে।
প্রতিযোগিতায় দেশ-বিদেশের মোট ১২,০০০ দৌড়বিদকে অংশগ্রহণ করানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ম্যারাথনের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসেবে রাখা হয়েছে ভারতের তারকা ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় পি. ভি. সিন্ধুকে।
ম্যারাথনটি জজ খেলপথার থেকে শুরু হয়ে গুয়াহাটির গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থান অতিক্রম করবে। দৌড়বিদরা কামাখ্যা, গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে নবনির্মিত নয়নাভিরাম কুমার ভাস্কর বর্মা সেতু দিয়ে মহাবাহু ব্রহ্মপুত্র নদ পার হয়ে আইআইটি পর্যন্ত যাবেন। এরপর একই পথ ধরে ফিরে এসে জজ খেলপথারেই ম্যারাথন শেষ হবে।
এই ম্যারাথনকে একটি বার্ষিক আন্তর্জাতিক ক্রীড়া-ইভেন্ট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই বিশ্ব অ্যাথলেটিক্সের সবুজ সংকেত পাওয়া গেছে। ম্যারাথনটি গুয়াহাটির ঐতিহাসিক স্থানগুলির পাশাপাশি অসমের প্রাণস্পন্দন মহাবাহু ব্রহ্মপুত্রকেও এই আয়োজনের অবিচ্ছেদ্য অংশীদার করে তুলবে।
এই ম্যারাথনের রেস ডিরেক্টর হিসেবে থাকবেন অভিজ্ঞ রিচার্ড হান্টার। অন্যদিকে বিদেশের এলিট অ্যাথলেট কো-অর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন প্রাক্তন এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন সুনীতা গোদারা।
ম্যারাথনের রুট ও আয়োজনের বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণের জন্য ইতিমধ্যেই বিশ্ব অ্যাথলেটিক্সের অভিজ্ঞ রেস কোর্স মেজারার, অস্ট্রেলিয়ার কিম ভিভিয়ান, গুয়াহাটি সফর করেছেন। তিনি ম্যারাথনের সম্পূর্ণ পথ অত্যন্ত খুঁটিয়ে পরীক্ষা করে গেছেন।
ক্রীড়া, পর্যটন, সংস্কৃতি ও ফিটনেসের এক অনন্য মেলবন্ধনের মধ্য দিয়ে এই আন্তর্জাতিক ম্যারাথন গুয়াহাটিকে বিশ্বমঞ্চে নতুন মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করবে—এমনই প্রত্যাশা আয়োজকদের।


