জমকালো ও বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জাপানের বন্দরনগরী নাগোয়াতে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু হলো ২০তম এশিয়ান গেমসের। জাপানের ঐতিহ্যবাহী মিজুহো পার্কের পালোমা মিজুহো স্টেডিয়ামে আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গেমসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন জাপানের সম্রাট নারুহিতো। এর মধ্য দিয়ে আগামী ১৬ দিন ধরে চলতে থাকা এশিয়ার সর্ববৃহৎ এই ক্রীড়া মহাযজ্ঞের পর্দা উন্মোচিত হলো।
জাপানি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী স্থায়ী এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাপানের সমৃদ্ধ কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও আধুনিক প্রযুক্তির এক অনন্য মেলবন্ধন ফুটিয়ে তোলা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) সভাপতি কার্স্টি কভেন্ট্রির উপস্থিতিতে জাপানের সম্রাট ও সম্রাজ্ঞীকে সম্মানজনক রাষ্ট্রীয় অভ্যর্থনা জানানো হয়।
স্টেডিয়ামে পবিত্র মশাল প্রজ্বলনের পাশাপাশি অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়ার (ওসিএ) পতাকা বহন করে নিয়ে আসেন জাপানের প্রাক্তন অলিম্পিক স্বর্ণপদকজয়ী অ্যাথলেটরা। সম্রাট নারুহিতো গেমসের উদ্বোধন ঘোষণা করার সাথে সাথেই পুরো স্টেডিয়াম করতালির আওয়াজ ও বর্ণিল আলোকছটায় মুখরিত হয়ে ওঠে।
অ্যাথলেটদের মার্চপাস্ট ও ভারতের চমকে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের অন্যতম মূল আকর্ষণ ছিল অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর ক্রীড়াবিদদের মার্চপাস্ট। বর্ণিল প্যারেডে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের অ্যাথলেটরা নিজ নিজ দেশের জাতীয় পতাকা হাতে অংশ নেন।
এবারের মার্চপাস্টে ভারতীয় দলের নেতৃত্ব দিতে দেখা যায় দুই তারকা অলিম্পিয়ানকে। শটপাট তারকা তাজিন্দরপাল সিং তূর শেষ মুহূর্তে সময়মতো পৌঁছাতে না পারায়, ভারতের পুরুষ পতাকাবাহক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কাবাডি তারকা পবন সেহরাওয়াত। তাঁর সাথে যৌথভাবে তেরঙা পতাকা হাতে ভারতীয় দলের মার্চপাস্টের সামনে ছিলেন দুইবারের অলিম্পিক পদকজয়ী শ্যুটার মনু ভাকের।
অন্যান্য দেশের মধ্যে ভিয়েতনাম, চীন ও আয়োজক দেশ জাপানের বিশাল অ্যাথলেট দল প্যারেডে দর্শকদের বিশেষভাবে নজর কাড়ে।
এবারের এশিয়ান গেমসে মোট ইভেন্টের সংখ্যা প্রায় ৪৩টি। যা প্যারিস অলিম্পিকের ৩২টি খেলা চেয়েও অনেক বেশি। আইওসি প্রধান কার্স্টি কভেন্ট্রি জানান, অলিম্পিকের সাথে সংযোগ বজায় রাখার পাশাপাশি এশীয় অঞ্চলের নিজস্ব বৈচিত্র্য ধরে রাখতে মহাদেশীয় এই গেমসের গুরুত্ব অপরিসীম।
রবিবার সকালে পুরুষদের ব্যক্তিগত ট্রায়াথলন ইভেন্টের মাধ্যমে এবারের এশিয়ান গেমসের প্রথম স্বর্ণপদকের লড়াই শুরু হবে। ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের মতে, মূল পদক তালিকায় শীর্ষস্থানের জন্য এবারও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে চীন ও স্বাগতিক জাপানের মধ্যে। বিশেষ করে জিমন্যাস্টিকস, ব্যাডমিন্টন এবং সাঁতারে দুই দেশের লড়াই আলাদা আকর্ষণ তৈরি করবে।
উল্লেখ্য, এই নিয়ে তৃতীয়বারের মতো জাপানের মাটিতে এশিয়ান গেমস অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর আগে ১৯৫৮ সালে টোকিও এবং ১৯৯৪ সালে হিরোশিমায় এই গেমসের আসর বসেছিল। আগামী ৪ অক্টোবর সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পর্দা নামবে এশিয়ার এই ক্রীড়া উৎসবের।


