বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ের পর নেশন্স লিগেও স্পেন জিতে চলেছে একের পর এক ম্যাচ। ক্রোয়েশিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে তারা শেষ করেছে টুর্নামেন্টের এবারের ধাপ।
ইউরো চ্যাম্পিয়ন। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর দল। দিনের পর দিন, ম্যাচের পর ম্যাচ, মাসের পর মাস অদম্য ছুটে চলা, হারতে ভুলে বসা। সব মিলিয়ে স্পেন অপ্রতিরোধ্য অনেক দিন ধরেই। কিন্তু দলটির জয়ের ক্ষুধা কমেনি একটুও। কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের বললেন, জয়ের পথ ধরেই ছুটে যেতে চায় তার দল।
চার ম্যাচের চারটিই জিতে তারা নিশ্চিত করেছে কোয়ার্টার ফাইনাল। আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাদের অপরাজেয় যাত্রা পৌঁছে গেছে ৪৩ ম্যাচে। সবশেষ হারটি ছিল সেই ২০২৪ সালের মার্চে কলম্বিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে। বিশ্বকাপ জয়ের পর টানা চারটি ম্যাচ জিততে পারা দ্বিতীয় দলও এখন স্পেন। ২০২২ বিশ্বকাপের পর এই কীর্তি গড়েছিল আর্জেন্টিনা।
সব মিলিয়ে স্পেনকে থামানোর মতো দল যেন এখন আর নেই। তাদের সামনে কেউ নেই, পেছনেও কাছাকাছি কেউ নেই। কিন্তু তাদের আকাঙ্ক্ষা তাতে কমে যাচ্ছে না। ক্রোয়েশিয়াকে হারানোর পর কোচ দে লা ফুয়েন্তে বললেন, তার দল এই জয়ের রথেই ছুটতে চায়। “আমাদের ফুটবলাররা উচ্চাকাঙ্ক্ষী। তারা অতৃপ্ত, সবসময় আরও বেশি চায়। কোনো কিছুতেই আপস করে না এই ছেলেরা। এই দলটি শুধু আজই নয়, এই পুরো যাত্রাপথেই দেখিয়েছে যে, তারা জেতার জন্যই মাঠে নামে। এমন একদল ফুটবলারের কাছ থেকে এটি একটি চমৎকার মনোভাব, যারা সবসময় নিজেদের সেরাটা দিতে চায়। আমরা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েই সন্তুষ্ট নই, প্রতিদিন আরও উন্নতি করতে চাই, এটাই আমাদের লক্ষ্য।”
আগের ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে সাত গোল হজম করা ক্রোয়েশিয়া অবশ্য এই ম্যাচে বেশ শক্ত চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিল স্পেনকে। ৬০ মিনিট পর্যন্ত ১-০ গোলে এগিয়ে ছিল ক্রোয়াটরা। তবে গত কয়েকমাসে আরও কয়েকবারের মতো এবারও বদলি নেমে দলের ত্রাতা হন মিকেল মেরিনো। ৬১ মিনিটে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান তিনি।
ক্রোয়েশিয়ার গোলস্কোরার ইভান পেরিসিচ লাল কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়েন ৭৯ মিটে। ৮৮ মিনিটে দলকে জেতানো গোল করেন সেই মেরিনেই।
মেরিনোকে কৃতিত্ব দেওয়ার পাশাপাশি কোচ প্রশংসা করলেন তার দলের হার না মানা মানসিকতার।
“প্রথমার্ধে আমরা কিছুটা ভুগেছিলাম। ক্রোয়েশিয়া অনেক চাপ সৃষ্টি করেছিল, খেলাটা কঠিন ছিল। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে আমরা ধৈর্য ধরেছি, তাদের ক্লান্ত করে দিয়েছি এবং সুযোগ তৈরি করেছি। তারপর এক অসাধারণ আবহে একটি দুর্দান্ত দলের বিপক্ষে মিকেল আবারও জ্বলে উঠল। আমরা আরও একবার এমন একটি দলকে দেখলাম, যারা কখনো হাল ছাড়ে না এবং শেষ পর্যন্ত আমরা জয় পেয়েছি।”


