তিন দিন আগের ব্যর্থতা কী দারুণভাবেই না ঝেরে ফেলল ইতালি। দাপুটে পারফরম্যান্সে টপাটপ প্রতিপক্ষের জালে তিনবার বল পাঠাল তারা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে একটি গোল শোধ করলেও, ম্যাচের গতিপথ পাল্টাতে পারল না তুরস্ক। প্রতিপক্ষের মাঠে উয়েফা নেশন্স লিগে ৪-১ গোলে জিতেছে রবের্তো মানচিনির দল।
আলেস্সান্দ্রো বাস্তোনির গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর, ব্যবধান বাড়ান দাভিদে ফ্রাত্তেসি। একটু পরই তৃতীয় গোলটি করেন কায়োদে। এরপর তুরস্ক ব্যবধান কমানোর পর, বিজয়ীদের চতুর্থ গোলটি করেন পিও এস্পোজিতো। ম্যাচের প্রায় পুরোটা সময়ই বৃষ্টি হলো। তাতে মাঠের অনেক জায়গা হয়ে গেল এবড়ো-খেবড়ো। তবে লড়াইয়ে এর প্রভাব খুব বেশি পড়ল না। কোণঠাসা অবস্থা থেকেও দ্বিতীয়ার্ধে দারুণ খেলল তুরস্ক, যদিও স্কোরলাইনে তার প্রতিফলন ফেলতে পারল না তারা। পজেশন রাখায় একটু এগিয়ে থেকে গোলের জন্য ১৫টি শট নিয়ে কেবল তিনটিই লক্ষ্যে রাখতে পারে তুরস্ক। ইতালির ১৪ শটের পাঁচটি ছিল লক্ষ্যে। এই দুই দলই তেতো স্বাদ নিয়ে এবারের নেশন্স লিগ শুরু করে। গত সপ্তাহে ফ্রান্সের বিপক্ষে ১-০ গোলে তুরস্ক এবং বেলজিয়ামের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে ইতালি হেরে যায়।
আক্রমণাত্মক ফুটবলে প্রথম আধা ঘণ্টার মধ্যেই তিনবার প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠায় মানচিনির দল, কোণঠাসা হয়ে পড়ে স্বাগতিকরা। তাদের গোল উৎসবের শুরু হয় নবম মিনিটে। আগের মিনিটে পিও এস্পোজিতোর দারুণ শট ঝাঁপিয়ে কোনোমতে এক হাতে বাইরে পাঠান গোলরক্ষক। ওই কর্নারে তুরস্ক বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে, ১০ গজ দূর থেকে দারুণ শটে ক্রসবার ঘেঁষে গোলটি করেন বাস্তোনি। ২২ মিনিটে কায়োদের শট গোলরক্ষক ফেরালেও, বিপদমুক্ত করতে পারেননি। বল চলে যায় দূরের পোস্টে গোলমুখে, ছুটে গিয়ে টোকায় ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মিডফিল্ডার ফ্রাত্তেসি। চাপ ধরে রেখে পাঁচ মিনিট পর, দারুণ এক পাসিং ফুটবলে শাণানো আক্রমণে ব্যবধান আরও বাড়ায় ইতালি। বাঁ দিক থেকে কয়েকজন সতীর্থের পা ঘুরে বক্সে ডান দিকে বল পেয়ে জোরাল শট নেন ব্রেন্টফোর্ডের রাইট-ব্যাক কায়োদে, বল গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে জালে জড়ায়। বিরতির পর ৯০ সেকেন্ডের মধ্যে গোলও হজম করে ইতালি। অনায়াস শটে বল জালে পাঠান বারিস ইলমাজ। তুরস্কের সেই স্বস্তি অবশ্য তিন মিনিটের বেশি স্থায়ী হয়নি। সান্দ্রো তোনালির জোরাল শট পোস্টে প্রতিহত হলে, ফিরতি বল হেডে জালে জড়ান ২১ বছর বয়সী ইন্টার মিলান স্ট্রাইকার পিও এস্পোজিতো।


