ত্রিপুরা রঞ্জি দলের দুই পেশাদারের সার্ভিস কি বাকি মরশুমে আর পাওয়া যাবে না? এমনটাই প্রায় নিশ্চিত। পরাজয়ের হ্যাটট্রিক করে শুক্রবার আগরতলা ফিরেছে ক্রিকেটাররা। প্রথম দফায় ঘরের মাঠে শেষ ম্যাচটি খেলবে ২ নভেম্বর থেকে। এর জন্য নতুন দল দেয়ার কথা।
জাতীয় ক্রিকেটে লজ্জাজনক পারফরম্যান্স চলছে ত্রিপুরা শিবিরের। টানা তিন ম্যাচে হার দলের মনোবল একেবারে তলানিতে নামিয়ে এনেছে। এর অবস্থায় শক্তিশালী সৌরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মরশুমের চতুর্থ ম্যাচে মুখোমুখি হতে হবে। এম বি বি স্টেডিয়ামে হবে ম্যাচটি। শনিবার রাজ্যে আসছেন জয়দেব উনাদকারের নেতৃত্বে সফরকারী সৌরাষ্ট্র। দলে থাকার কথা তারকা অলরাউন্ডার রবীন্দ্র জাদেজা সহ চিরাগ জানি এবং হার্ভিক দেশাই-এর মত ক্রিকেটাররা। একটাই আশা ঘরের মাঠে ত্রিপুরার ভালো ফল। মুম্বাই, বাংলার মত দলের বিরুদ্ধে প্রথম ইনিংসে লিড নেয়ার ঘটনা রয়েছে। প্রশ্ন একটাই পারবে কি সৌরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়াতে? কাজটা কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। তবে সমস্যা একটাই, রাজ্য দলের ক্রিকেটদের মনোবল।
ত্রিপুরা প্রথম তিন ম্যাচে পরাজয়ের হ্যাটট্রিক করলেও সৌরাষ্ট্র একটিতে জয় এবং দুটি ম্যাচে প্রথম ইনিংসে লিড নিয়ে অনেকটা ভালো জায়গায় রয়েছে।
আজ থেকে সৌরাষ্ট্র ম্যাচের প্রস্তুতি শুরু হওয়ার কথা। তবে ত্রিপুরা ক্রিকেটের দল গঠন এখন আর নির্বাচকদের হাতে নেই। টিসিএ-এর বয়স উত্তীর্ণ ‘সভাপতি’ নতুন ‘পয়েন্ট থিয়োরি’ বের করেছেন! সেই হিসেবেই হয় দল। নামকাওয়াস্তে নির্বাচকদের রাখা হয়েছে। তারা শুধু টিসিএ থেকে টাকা পাচ্ছেন। আর ওই টাকার লোভে ঠুঁটো জগন্নাথ হয়েও পদ আগলে রয়ে যাচ্ছেন! একসময়ের নামিদামি ক্রিকেটারদের এই কাণ্ড এখন ক্রিকেট মহলে রীতিমতো ভাইরাল!
তথাদের কথিত ওই সভাপতি এবার কোন পয়েন্ট থিয়োরিতে কোন দল নির্বাচন করেন, সেই দল ঘরের মাঠে কোন ম্যাজিক দেখায় সেদিকে তাকিয়ে ক্রিকেট মহল। মোদ্দা কথা ত্রিপুরা রঞ্জি দল একটু হলেও সাফল্যের মুখ দেখুক। আদৌ কি সেটা হবে।
গুণীজনের ক্রিকেট সংস্থার অনুষ্ঠানে এসে যেভাবে লম্বা চওড়া সার্টিফিকেট (!) দিয়ে যান, এতে মনে হয় বিশাল বিপ্লব এসে গেছে। বাস্তবের মাটিতে পা রাখলে বোঝা যায়, ত্রিপুরা ক্রিকেটের কঙ্কালসার দেহ! আর কতো বছর ফাঁকা আওয়াজ চলবে? সাদাকে কতদিন কালো বানিয়ে চালানো হবে? সময় কাউকেই ক্ষমা করবে না। ক্ষমতায় থাকুক বা না-ই থাকুক – কর্ম ও পরিসংখ্যানের ভূত আজীবন তাড়া করে বেড়াবে। কোন ‘ইরেজার’ নেই সেগুলি মুছে ফেলার।


