শেষ বাঁশি বাজার পর মাঠেই ঠায় দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। কোমরে হাত, মুখে হতাশার চাপ, দৃষ্টি শূন্যে। কেউ কেউ এসে তাকে সান্ত্বনা দিলেন, পিঠ চাপড়ে দিলেন, জড়িয়ে ধরলেন। তিনি সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকলেন অনেকক্ষণ। ক্যামেরায় খুব কাছ থেকে ধরা হলো তার চোখজোড়া। সেখানে টলমল করছে জল। লুকানোর চেষ্টা করলেন কি না, বোঝা গেল না। এক পর্যায়ে তা বেরিয়েই এলো। রোনালদো কাঁদলেন। আবারও। গত বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর কাছে হেরেও এভাবে কান্নায় মাঠ ছেড়েছিলেন তিনি। নিজের শেষ বিশ্বকাপেও চোখের জলে ভেসেই বিদায় হলো কিংবদন্তির। এবার তো পথচলা থেমে গেল কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই! ব্যক্তিগত কিছু রেকর্ড তার এবারও হয়েছে। দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে ছয়টি বিশ্বকাপে খেলেছেন। প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছয়টি বিশ্বকাপে গোল করেছেন। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রথম গোলের দেখা পেয়েছেন। সেই গোলে নকআউটে সবচেয়ে বেশি বয়সে গোলের ইতিহাস গড়েছেন। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত বিশ্বকাপ শিরোপার ধারেকাছেও যেতে পারেননি। ছিটকে পড়ে সেই হতাশা রোনালদোর আছে। তবে নিজেকে উজাড় করে দেওয়ার তৃপ্তি তার সঙ্গী। “এভাবে বিশ্বকাপ ছেড়ে যাওয়াটা স্বাভাবিকভাবেই দুঃখজনক। কিন্তু যেমনটা আমি বলেছিলাম, আমার সর্বস্ব দিয়েছি, নিজের সেরাটা দিয়েছি। এবং আমি স্বচ্ছ ভাবনা নিয়েই বিদায় নিচ্ছি”। আরও বলেন, “এটাই ফুটবল, এটাই একজন ফুটবলারের জীবন। কখনও জয় আসে, কখনও পরাজয়। সবকিছুর মধ্যেও জীবনকে এগিয়ে নিতেই হয়।”
স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচটির আগেই পর্তুগাল অধিনায়ক নিশ্চিত করেছেন, বিশ্বকাপে তার দেখা যাবে না তাকে। তবে এখনই জাতীয় দলকে বিদায় জানাবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেননি আন্তর্জাতিক ফুটবল ইতিহাসের সফলতম গোলস্কোরার। “হ্যাঁ, এটা আমার শেষ বিশ্বকাপ ছিল, কিন্তু বাকিটা… আমার ভাবনার ব্যাপার আছে, পরিবারের সঙ্গে কথা বলার ব্যাপার আছে। উত্তেজনার বশে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার কিছু নেই। জীবন নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময় আছে। হুট করে সিদ্ধান্ত নেব না।”


