পেনাল্টি মতো সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও নষ্ট করলেন ফরাসি দলনেতা কিলিয়ান এমবাপে। প্রথমার্ধে আরও কয়েক দফায় নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। তবে, দলকে দুর্ভাবনায় পড়তে দেননি, দারুণ এক গোলে দেখালেন পথ। পরে সতীর্থের গোলেও রাখলেন অবদান। বিশ্বকাপে ফের মরক্কোর পথচলা থামিয়ে সেমিফাইনালে উঠল ফ্রান্স। চার বছর আগের আল বায়েতের লড়াইয়ের রিপ্লে হলো বস্টনের জিলেট স্টেডিয়ামে। তবে এবার সেটা নকআউট পর্বে এক ধাপ আগে।
বৃহস্পতিবার উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ২-০ গোলে জিতল দিদিয়ে দেশমের দল। তাদের দ্বিতীয় গোলটি করেন উসমান দেম্বেলে। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে একই স্কোরলাইনে জিতেছিল ফরাসিরা।
অতিরিক্ত সতর্ক হতে গিয়ে ম্যাচে কখনোই সেভাবে প্রতিপক্ষকে ভাবাতে পারেনি মরক্কো। প্রথমার্ধে একেবারে খোলসে বন্দি দলটি পুরো ম্যাচে গোলের জন্য পাঁচটি শট নিয়ে একটি লক্ষ্যে রাখতে পারে। আর ফ্রান্সের ২২ শটের আটটি ছিল লক্ষ্যে।
ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারতো ফ্রান্স, ইয়াসিন বোনুর নৈপুণ্যে তা হয়নি। বক্সের বাইরে থেকে এমবাপের জোরাল শটে ঝাঁপিয়ে বলে হাত ছোঁয়ান গোলরক্ষক, যদিও বল বাইরেই যাচ্ছিল। ওই কর্নারে ছয় গজ বক্সে হেড করেন অরক্ষিত দাইয়ু উপামেকানো, ঝাঁপিয়ে সেটা আটকে দেন বোনু। বেশিরভাগ সময় বল দখলে রেখে আক্রমণেও আধিপত্য ধরে রেখে খেলতে থাকে ফরাসিরা। তবে, মরক্কো রক্ষণে দৃঢ়তা ধরে রাখে।
২৫ মিনিটে অবশ্য একটা ভুল করে ফেলে মরক্কোর রক্ষণভাগ। এমবাপেকে ডিফেন্ডার নুসায়ের মাজরাউই ফাউল করলে পেনাল্টি দেন রেফারি। স্পট কিক নেওয়ার আগে অনেকটা সময় নষ্ট হয়। এমবাপের মনোযোগে বিঘ্ন ঘটে, তার দুর্বল শট ঝাঁপিয়ে আটকান বোনু। জাতীয় দলের হয়ে আগের ১৫টি পেনাল্টি শটেই বল জালে পাঠিয়েছিলেন এমবাপে। এর আগে সবশেষ, ২০২০ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে শেষ ষোলোয় সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে টাইব্রেকারে স্পট কিকে ব্যর্থ হয়েছিলেন তিনি।
একচেটিয়া চাপ ধরে রেখে, অনেক সুযোগ তৈরি করেও প্রথমার্ধে সাফল্য পায়নি মরক্কো। ৩৫ মিনিটে বক্সে দারুণ পজিশনে থেকে দেজিরে দুয়ের নেওয়া শট ঝাঁপিয়ে আটকান গোলরক্ষক। বিরতির ঠিক আগে অনেক দূর থেকে জোরাল শটে চেষ্টা করেন লুকা জিনিয়া। বল হাওয়ায় ভেসে শেষ মুহূর্তে নিচু হয়ে জালে জড়ানোর মুখে লাফিয়ে ওঠা বোনুর আঙুল ছুঁয়ে ক্রসবারে লাগে।
প্রথমার্ধে কোণঠাসা মরক্কো বিরতির পর আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করে। এতে বাড়তি জায়গা পেয়ে যায় ফ্রান্স। ছয় মিনিটের ব্যবধানে দুবার জালে বল পাঠিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় তারা। ৬০ মিনিটে সামনে ইসা জিওপের বাধায় বক্সের মুখে এক মুহূর্ত থামেন এমবাপে, এক পলকে সামনে দেখেই নেন শট। বল হাওয়ায় একটু বাঁক নিয়ে পোস্ট ঘেঁষে খুঁজে নেয় ঠিকানা। আসরে টানা তৃতীয় এবং ছয় ম্যাচের পাঁচটিতে জালের দেখা পেলেন এমবাপে। আট গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট নিয়ে বসলেন গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে তালিকার শীর্ষে। সমান আটটি গোল করে দুইয়ে লিওনেল মেসি। এমবাপেই প্রথম ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের ভিন্ন দুই আসরে ১০ গোল করলেন। ২০২২ সালেও আটটি গোলের পাশাপাশি দুটি অ্যাসিস্ট করেছিলেন ফরাসি তারকা। বিশ্বকাপের রেকর্ড বুকে এমবাপের মোট গোল হলো ২০টি, একটি বেশি নিয়ে শীর্ষে এখনও মেসি। জাতীয় দলের রেকর্ড গোলদাতার মোট গোল হলো ৬৪টি।
ম্যাচের ৬৬ মিনিটেই বক্সের বাইরে থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন দেম্বেলে। তাকে বল বাড়িয়ে ডান পাশ দিয়ে দ্রুত বক্সে ঢুকে পড়েন এমবাপে। দুই ডিফেন্ডারও তাকে অনুসরণ করেন। আর সেই মুহূর্তে খানিকটা ডান পাশে সরে জোরাল শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন পিএসজি ফরোয়ার্ড। ২০১৮ ও ২০২২ আসরে একবারও জালের দেখা না পাওয়া দেম্বেলে এবার ছয় ম্যাচে একটি হ্যাটট্রিক সহ করলেন পাঁচ গোল। জাতীয় দলের হয়ে তার মোট গোল হলো ১২টি।
দ্বিতীয় গোলের মিনিট দশেক পর, পড়ে গিয়ে পায়ে একটু ব্যথা পান এমবাপে। তার চোখে মুখে ফুটে ওঠে অস্বস্তি। ম্যাচের ফল নিয়েও ততক্ষণে অনিশ্চয়তা অনেকটাই কেটে গিয়েছিল। তাই ঝুঁকি এড়াতে তাকে তুলে নেন কোচ। দলের সেরা তারকার অনুপস্থিতিতে বাকি সময়ে একটুও ভুগতে হয়নি গতবারের রানার্সআপদের। নিয়ন্ত্রণ রেখেই জয়ের আনন্দে মাঠ ছাড়ে তারা। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা খেলবে স্পেন অথবা বেলজিয়ামের বিপক্ষে।


