মায়ামির ৭-১ গোলের জয়ে মেসির চারটি!

Date:

Share post:

ফ্রি কিক থেকে দুটি গোল করেন লিওনেল মেসি, জাদুকরি নৈপুণ্যে করেন আরেকটি গোল, চার গোল করার পাশাপাশি সহায়তাও করেন আরেকটি গোলে। নতুন করে কিছুই প্রমাণের নেই লিওনেল মেসির। স্রেফ একটু দেখিয়ে দিলেন, এই ৩৯ বছর বয়সেও কত অনায়াসে এক ম্যাচে চার গোল করে ফেলতে পারেন তিনি!বিসঅধিনায়কের দিনে গোলের মালা সাজিয়ে জয় পেয়েছে ইন্টার মায়ামি। মেজর লিগ সকারের ম্যাচে সিএফ মন্ট্রিয়লকে বিধ্বস্ত করেছে তারা ৭-১ গোলে। গত ২৫ জুলাইয়ের পর মায়ামির প্রথম জয় এটি। সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে জয় পেল তারা পাঁচ ম্যাচ পর। মেসির পেশাদার ক্যারিয়ারে এক ম্যাচে চার বা এর বেশি গোল হলো এই নিয়ে ৯ বার। এবারের আগে সবশেষটি ছিল বার্সেলোনার জার্সিতে ২০২০ সালে লা লিগায়, এইবারের বিপক্ষে। ১৮ গোল নিয়ে চলতি আসরে গোলের তালিকায় সবার ওপরেও উঠে গেলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। তার চার গোলের দুটি ফ্রি কিক থেকে, বাকি দুটির একটি জাদুকরি কারিকুরিতে। চার গোল করার পাশাপাশি একটি গোলে সহায়তাও করেন মেসি। মায়ামির অন্য তিন গোল করেন কাজেমিরো, লুইস সুয়ারেস ও আলেক্সান্ডার। মায়ামি ম্যাচটি খেলেছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান কোচ গিয়ের্মো ওশোকে ছাড়াই। সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে একাধিকবার লিগের ‘লেট কিকঅফ পলিসি’ লঙ্ঘনের দায়ে তাকে এই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। ম্যাচটি তিনি দেখেন বক্স থেকে। ডাগআউটে ছিলেন সহকারী কোচ রাফায়েল পেরেস। শিগগিরই দলের মূল কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেবেন কিলি গন্সালেস। দলে যোগ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অনুমোদনের অপেক্ষায় আছেন এই আর্জেন্টাইন। ঘরের মাঠে একটু ধীরলয়ে ম্যাচের শুরুর পর নিয়ন্ত্রণ নেয় মায়ামি। মেসি প্রথম গোলের দেখা পেতে পারতেন নবম মিনিটেই। বক্সের বাইরে থেকে তার গড়ানো শট গোলকিপারের নাগালের বাইরে থাকলেও পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ১৯ মিনিটে কর্নার থেকে তেলাস্কো সেগোভিয়ার হেড ফিরে আসে পোস্টে লেগে। ফিরতি বলে হার্মান বের্তেরামের ভলি বাইরে চলে যায় এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে। আবার কর্নারে জটলার মধ্য থেকে অনেকটা লাফিয়ে হেডে বল জালে পাঠান কাজেমিরো। মায়ামির জার্সিতে ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডারের প্রথম গোল এটি। মন্ট্রিয়ল সমতায় ফেরে ৩৭ মিনিটে। বক্সের বাইরে থেকে ফাবিয়ান হার্বাসের গড়ানো শটে জোর বেশি ছিল না। তবে সেটি ফেরাতে স্লাইড করেছিলেন মায়ামির একজন। তার পায়ে হালকা লেগে গোলকিপারকে বিভ্রান্ত করে বল ঢুকে যায় জালে। আবার এগিয়ে যেতে সময় লাগেনি মায়ামির। মিনিট তিনেক পর ফ্রি কিক পায় মায়ামি। মেসির শটে জোর বেশি ছিল না। গোলের জন্য নয়, তিনি মূলত শট নিয়েছিলেন বল গোলমুখে রাখতে। কিন্তু প্রতিপক্ষের একজনের পায়ে হালকা ছোঁয়া লেগে গোলকিপারের হাতে লেগে বল আশ্রয় নেয় জালে। একজনের পায়ে লাগার পরও গোলকিপারের ঠেকানোর মতোই ছিল বলটি। গোলটি আত্মঘাতী হবে নাকি মেসির, সেটি নিয়ে কিছুটা সংশয় থাকলেও শেষ পর্যন্ত মায়ামি অধিনায়কের নামের পাশেই যোগ করা হয়। ৪৪ মিনিটে আবার বক্সের বাইরে থেকে মেসির শট সামান্যর জন্য বাইরে দিয়ে চলে যায়। যোগ করা সময়ে অবিশ্বাস্য এক পাস দেন মেসি, যেটি থেকে হতে পারত গোল। কিন্তু গোলকিপারকে একা পেয়েও নোয়াহ অ্যালেন পারেননি কাজে লাগাতে। প্রথমার্ধ শেষে দু্ই দল ছিল কাছাকাছি। পরের অর্ধ একদমই একতরফা। একের পর এক গোল করেন মেসি ও তার দল। আর্জেন্টাইন জাদুকরের দ্বিতীয় গোলটি আসে ৫২ মিনিটে। ঐন্দ্রজালিক এক গোল সেটি, তার ক্যারিয়ারে অবশ্য এরকম গোলেরও অভাব নেই। বক্সের একটু বাইরে বল পেয়ে একজনকে কাটিয়ে তিনি এগিয়ে গিয়ে পাস বাড়ান। কিন্তু মন্ট্রিয়লের একজনের পায়ে লেগে বল ফিরে আসে তার কাছেই। তিনি বল ধরে ভেতরে ঢুকে পড়েন। তার চারপাশে প্রতিপক্ষের তিন জন। এর মধ্যেই দুজনকে কাটিয়ে তিনি বেরিয়ে যান। বলের নিয়ন্ত্রণ হারাতে হারাতেও আবার সামলে নেন। এরপর কাটিয়ে ফেলেন আরও একজনকে। হতভম্ব ও অসহায় মন্ট্রিয়লের রক্ষণভাগ তখন হাল ছেড়ে দিয়ে স্রেফ দেখতে থাকে। তিনি ঠাণ্ডা মাথায় গোলকিপারকে ফাঁকি দিয়ে দূরের পোস্ট দিয়ে বল পাঠান কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায়। ৫৯ মিনিটে পরপর দুই দফায় গোল করার সুযোগ হারায় মন্ট্রিয়ল। ৭৬ মিনিটে সুয়ারেসের প্রচেষ্টা প্রতিহত করেন মন্ট্রিয়লের গোলকিপার। তবে একটু পর ঠিকই সফল হন উরুগুয়ের অভিজ্ঞ তারকা। ৮০ মিনিটে প্রতিআক্রমণে মাঝমাঠ থেকে চমৎকার এক লব করেন মেসি। অফসাইড ফাঁদ এগিয়ে বল ধরে এগিয়ে যান সুয়ারেস। পায়ের সামনের অংশ দিয়ে শট নিয়ে আগুয়ান গোলকিপারের পাশ দিয়ে তিনি বল পাঠান জালে। মেসির হ্যাটট্রিক পূর্ণ হয় ৮৩ মিনিটে। থ্রু বল ধরে তিনি দ্রুতগতিতে ঢুকে পড়েন বক্সে। এরপর আগুয়ান গোলকিপারের ওপর দিয়ে মাপা চিপ শটে লক্ষ্য ভেদ করেন। মায়ামির ষষ্ঠ গোলটি করেন বদলি নামা আলেক্সান্ডার। ৮৯ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে শট নেন তিনি মন্ট্রিয়লের রক্ষণ দেয়ালের ফাঁক গলে। ১৮ বছর বয়সী প্রতিভাবান মিডফিল্ডারের গড়ানো শট ঠেকাতে পারেননি গোলকিপার। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে মেসির ডান পায়ের শট ধরে ফেলেন গোলকিপার। মিনিট তিনেক পর অবশ্য কোনো উপায় পাননি গোলকিপার। বক্সের একটু বাইরে মাঝবরাবর ফ্রি কিক পায় মায়ামি। মেসির বাঁপায়ের বাঁকানো শটে ডাইভ দিয়ে নাগাল পাননি গোলকিপার। ২২ ম্যাচে ৪২ গোল নিয়ে ইস্টার্ন কনফারেন্সের পয়েন্ট তালিকায় দুইয়ে ইন্টার মায়ামি। সমান ম্যাচে ১০ পয়েন্ট বেশি নিয়ে শীর্ষে ন্যাশভিল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

Related articles

দুই ওপেনারের ব্যাটিংয়ে গর্বিত দল : শ্রেয়াস

দু’ম্যাচ বাকি থাকতেই নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-২০ সিরিজ জয় করে নিল ভারত। নিউ জ়িল্যান্ডের মাটিতে কিউইজদের বিরুদ্ধে শ্রেয়াস আয়ারদের...

রেকর্ড ভেঙে রেকর্ড গড়ে অনন্য অভিষেক

৩৫ বলে সেঞ্চুরি । ৩৮ বলে ১১৩। ৯টি বাউন্ডারি , ১১টি ওভার বাউন্ডারি। ওয়েলিংটনের ২২ গজে নিউ জ়িল্যান্ডের...

‘ফিল্ডিং’র সময়েই বৈভবকে নিয়ে পরিকল্পনা সাজিয়েছিলাম’ : অভিষেক

মাত্র ৩৫ বলে শতরান করেছেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের তরুণ তুর্কি ওপেনার অভিষেক শর্মা । নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তৃতীয় টি-২০...

১৩৭ রানে শেষ নাইডু রাজ্যদল!

১৩৭ রানে শেষ অনূর্ধ্ব-‌২৩ কর্ণেল সিকে নাইডু ট্রফির রাজ্যদল! ভুল সিদ্ধান্তের খেসারত দিতে হয়েছে দলকে? টানা ৩ দিন...