‘দিয়েগোকে উপভোগ করতে দিন, এটা তার জন্য উপহার’, ইংল্যান্ডকে হারানোর পর বলেছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি জয় উৎসর্গ করলেন মারাদোনাকে।
আকাশে তাকিয়ে হয়তো দিয়েগো মারাদোনাকে খুঁজছেন তিনি। আরেকটি মহাকাব্যিক জয়ে শিরোপা ধরে রাখার পথে আরেকটু এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা। পিছিয়ে পড়ার পর আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজিয়ে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিল লিওনেল স্কালোনির দল। এই জয় ফুটবল কিংবদন্তি দিয়েগো মারাদোনাকে উৎসর্গ করেছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। টানা দ্বিতীয় ও শেষ চার আসরে তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে লাতিন আমেরিকার দেশটি। ৪০ বছর আগে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জাদুকরী ফুটবল উপহার দিয়েছিলেন মারাদোনা। ২-১ গোলেই ইংলিশদের হারানোর পথে করেছিলেন ‘বিতর্কিত’ ও ‘বিখ্যাত’ দুটি গোল। ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধের চার বছর পর মারাদোনার নৈপুণ্যে পাওয়া ওই জয় আর্জেন্টিনার চিরন্তন গল্পগাঁথার অংশ। এবারও তেমনই জাদুকরী কিছু করেন মেসিরা। পিছিয়ে পড়ার পর যেভাবে নিজেদের উজাড় করে দিয়ে খেলেছেন, একের পর এক সুযোগ তৈরি করেছেন এবং নির্ধারিত সময়েই জয় তুলে নিয়েছেন, এর মাহাত্ম্যও কম নয়। পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচের বাকি সময়ে ৮৮ শতাংশ সময় পজেশন ধরে রেখে দুটি গোল আদায় করে নেয় আর্জেন্টিনা। এন্সো ফের্নান্দেস ও লাউতারো মার্তিনেসের দুই গোলেই অবদান রাখেন মেসি। ম্যাচ শেষে জয় নিয়ে বলতে গিয়ে প্রয়াত মারাদোনার প্রসঙ্গ টানেন মেসি। “কোনো সন্দেহ নেই, দিয়েগো উপরে থেকে এটা খুব উপভোগ করছেন। কারণ, আজকের দিন তার জন্য খুবই বিশেষ একটি দিন। তাকে এই আনন্দ দিতে পারা এবং উপরে থেকে তার যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে উপভোগ করতে পারা দারুণ একটি ব্যাপার। তাকে এটা উপভোগ করতে দিন, কারণ এটা তার জন্য একটা উপহারও।” ১৯৮৬ সালের ২২ জুন মেক্সিকোর বিখ্যাত আসতেকা স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধে পাঁচ মিনিটের মধ্যে ‘হ্যান্ড অব গড’ ও ‘গোল অব দা সেঞ্চুরি’ গোল দুটি করেন মারাদোনা। সেই দুই গোল নিয়ে আজও কত কথা, কত আলোচনা।


