রেফারি ধোলাই ইস্যুতে শো-কজের জবাব নিয়ে ত্রিপুরা ফুটবল এসোসিয়েশনের (টিএফএ) গভর্নিং বডির সভা ২৬ অক্টোবর ঢাকা হয়েছে। ঐদিন সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটায় রাজ্য ফুটবল সংস্থার অফিসে হবে সভা। গত ৪ অক্টোবরের প্রথম ডিভিশনের সুপার লিগের আসরে এগিয়ে চলো সংঘ ও ব্লাডমাউথ ক্লাবের ম্যাচে রেফারি ধোলাই কাণ্ডে শোকজ করা হয়েছিল ব্লাডের চার ফুটবলার, ম্যানেজার ও ক্লাবকে। সবাই ১৪ অক্টোবরের মধ্যে জবাব দেয়। এই জবাব নিয়েই গভর্নিং বডিতে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এখবর জানিয়েছেন রাজ্য ফুটবল সংস্থার সচিব অমিত চৌধুরী। তিনি বৈঠকে গভর্নিং বডির সকল সদস্যদের উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করেছেন। প্রসঙ্গত প্রথম ডিভিশন লিগ ফুটবলের সুপার ফোরের ওই ম্যাচটি ৭৭ মিনিট পর হয় নি। ব্লাডের ফুটবলাররা পেনাল্টির দাবিতে খেলতে রাজি হন নি। রেফারি ৪০ মিনিট অপেক্ষার পর সমাপ্তির ঘোষণা করেন। পৃথক ভাবে তিন দফা রেফারিকে শারীরিক ভাবে নিগ্রহ করা হয়। ওই ঘটনায় জড়িত ছিলেন চার ফুটবলার পারভেজ ভূঁইয়া, বুদ্ধ দেববর্মা, বয়ার জমাতিয়া এবং এল সিং। পাশাপাশি রেফারি বিশ্বজিত দাসকে নিগৃহীত করেছিলেন ম্যানেজার দেবায়ন দত্ত। মাঠে ফেলে মেরেছিলেন রেফারিকে। পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশ মাঠে ঢুকেও নাকাল হন। পরে রীতিমত শক্তি প্রয়োগ করে পুলিশ ঘটনা আয়ত্বে আনেন। না হলে বড় অঘটন ঘটার সম্ভাবনা থেকে যেত। ম্যাচের পরের দিনে লীগ কমিটির কর্তারা জরুরি বৈঠক করে ওই পাঁচজনকে শোকজ করেছিলেন। পাশাপাশি ব্লাড মাউথ ক্লাবকে শোকজ করা হয়েছিল কেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তা জানানোর জন্য। ইতিমধ্যেই শোকজের জবাব দিয়ে দিয়েছেন অভিযুক্ত চার ফুটবলার এবং ম্যানেজার। দূর্গা পুজো থাকায় এতদিন রাজ্য ফুটবল সংস্থা বন্ধ ছিল। সোমবার খুলবে অফিস। ওই দিনই নেওয়া হবে সিদ্ধান্ত।
এদিকে, ব্লাডমাউথ ক্লাবও ঘটনার নিন্দা করেছে। ক্লাবের পক্ষ থেকে তিন সদস্যকে তদন্তকারী দল গোটা ঘটনার তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দেয় ক্লাবের কাছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ক্লাব ইতিমধ্যেই পারভেজ ও বুদ্ধ’কে এক বছরের জন্য, বয়ার’কে ছয় মাস ও রাজ্যের বাইরের ফুটবলারকে ৩ মাসের জন্য বরখাস্ত করেছে। ম্যানেজারকে বরখাস্ত করা হয় দুই বছর। সব মিলিয়ে গোটা ঘটনায় ব্লাডমাউথ বেশ কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়।
এদিকে, ফুটবলপ্রেমীরাও চাইছেন অভিযুক্ত চার ফুটবলের বিরুদ্ধে যাতে কড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যাতে আগামী দিনে কোন ফুটবলার রেফারির গায়ে হাত তুলতে না পারেন। এবছর স্থানীয় রেফারিরা অনেকটাই ভালো বাঁশি বাজিয়েছেন। কিন্তু ফুটবলাররা নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতেই সব দোষ রেফারির কাধে চাপিয়ে দিয়েছেন বলে ফুটবল প্রেমীদের অভিযোগ। এখন দেখার রাজ্য ফুটবল সংস্থার কর্তারা কতটা কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।


