গ্লাসগো ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমসে ভারত মোট ৩৯টি পদক (১৩টি সোনা, ১৭টি রুপো এবং ৯টি ব্রোঞ্জ) জিতে পদক তালিকার চতুর্থ স্থানে থেকে অভিযান শেষ করেছে। স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে ২৩ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত এই আসরটি হয়। এবারের গেমসে কুস্তি, ব্যাডমিন্টন, টেবিল টেনিস, হকি এবং শুটিংয়ের মতো ভারতের ঐতিহ্যবাহী পদকসমৃদ্ধ খেলাগুলো বাদ দেওয়া সত্ত্বেও ভারতীয় অ্যাথলিটরা একাধিক ঐতিহাসিক নজির গড়েছেন।
ঐতিহাসিক পারফরম্যান্স
বক্সিংয়ে
ভারতীয় বক্সাররা রিং কাঁপিয়ে রেকর্ড ১০টি পদক জিতেছেন। যার মধ্যে রয়েছে ৭টি সোনা এবং ৩টি রুপো। কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে একক সংস্করণে বক্সিংয়ে এটিই ভারতের সর্বশ্রেষ্ঠ পারফরম্যান্স। সোনা জিতেছেন প্রীতি পওয়ার, জৈস্মিন লম্বোরিয়া, সাক্ষী চৌধুরী, প্রিয়া ঘাঙ্ঘাস, অরুন্ধতী চৌধুরী, সচিন সিবচ এবং অঙ্কুশ পানঘাল। অলিম্পিক পদকজয়ী লভলিনা বরগোঁহাই রুপো পেয়েছেন।
মীরাবাই চানুর সোনার হ্যাটট্রিক
ভারোত্তোলনে মহিলাদের ৪৮ কেজি বিভাগে সোনা জিতে ইতিহাস গড়েছেন মীরাবাই চানু। এটি কমনওয়েলথ গেমসে তাঁর টানা তৃতীয় স্বর্ণ পদক।
অ্যাথলেটিক্সে জোড়া পদক ও রেকর্ড
পুরুষদের জ্যাভলিন থ্রো-তে ভারত জোড়া পদক পেয়েছে। চোট সারিয়ে ফিরে নীরজ চোপড়া ৮৫.৮৩ মিটার ছুঁড়ে রুপো এবং যশবীর সিং ৮৫.৪১ মিটার ছুঁড়ে ব্রোঞ্জ জিতেন। এছাড়া, গুলবীর সিং ১০,০০০ মিটারে রুপো এবং ৫,০০০ মিটারে ব্রোঞ্জ জিতে প্রথম ভারতীয় ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড অ্যাথলিট হিসেবে একই গেমসে দুটি ব্যক্তিগত পদক পাওয়ার নজির গড়েন। তেজস্বিন শঙ্কর ডেকাথলনে ভারতের প্রথম ব্রোঞ্জ পদক এনে দেন।
জুডোতে নতুন ইতিহাস
জুডোর ইতিহাসে ভারতকে প্রথমবার সোনা এনে দেন অস্মিতা দে এবং হর্ষ সিং।
প্যারা-স্পোর্টসে সাফল্য
প্যারা-অ্যাথলেটিক্সে শর্মিলা ধানকড় মহিলাদের শট পাটে সোনা জিতে দুই দশকের পদকের খরা কাটান। অন্যদিকে, প্যারা-পাওয়ারলিফটার ঝন্ডু কুমার ভারতের হয়ে গেমসের প্রথম পদক (ব্রোঞ্জ) জেতেন।
পদক কমার কারণ
২০০২ সালের পর থেকে প্রতিবার ভারত ৫০ বা তার বেশি পদক জিতলেও এবার তা ৩৯-এ নেমে এসেছে। এর মূল কারণ, আর্থিক সীমাবদ্ধতার জন্য গ্লাসগো কর্তৃপক্ষ গেমসের পরিধি ছোট করে দেয় এবং ভারতের নিশ্চিত পদক পাওয়ার ক্ষেত্রগুলো (যেমন কুস্তি ও শুটিং) বাদ দেওয়া হয়েছিল। তবে কম খেলায় অংশ নিয়েও ভারতীয় দলের সাফল্যের হার ছিল অত্যন্ত প্রশংসনীয়।


