বিশ্বকাপের পর প্রথমবার শুরুর একাদশে খেলতে নেমেই দারুণভাবে জ্বলে উঠলেন লিওনেল মেসি। দুটি গোল করার পাশাপাশি অ্যাসিস্টও করলেন আরেকটিতে। মায়ামির জয়ে জোড়া গোল ও রেকর্ড করলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। ম্যাচ শুরুর মিনিট পাঁচেক না যেতেই স্যান লুইসের গোল! ঘরের মাঠে ইন্টার মায়ামির জন্য এটি ধাক্কা ছিল। অবশ্য জবাব দিতে সময় খুব বেশি নেন নি তারা। সামনে থেকেই নেতৃত্ব দেন মেসি। দুটি গোল করলেন, করালেন একটি। তার নাম লেখা হলো রেকর্ড বইয়েও। শেষ পর্যন্ত আর পাত্তা পেল না প্রতিপক্ষ। লিগস কাপের ম্যাচটিতে মেক্সিকোর ক্লাব আতলেতিকো স্যান লুইসকে ৪-২ গোলে হারায় মেসির ইন্টার মায়ামি। বিশ্বকাপের পর প্রথমবার শুরুর একাদশে খেলতে নেমে দুই গোল করে মেসি গড়েন রেকর্ড। লিগস কাপে তার গোল এখন ১৪টি। ২০২৩ সালে টুর্নামেন্টটি সম্প্রসারিত হয়ে নতুনভাবে শুরুর পর সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ড এটিই। পেরিয়ে যান তিনি লস অ্যাঞ্জেলস এফসির ডেনিস বুয়াঙ্গাকে। যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর ক্লাবগুলিকে নিয়ে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় ১২ ম্যাচ খেলে পাঁচটিতেই একাধিক গোল করলেন আর্জেন্টাইন জাদুকর। মায়ামির নু স্টেডিয়ামে ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে দাভিদ রদ্রিগেসের হেডে এগিয়ে যায় স্যান লুইস। মিনিট ছয়েক পরই সমতায় ফেরে মায়ামি। গোছানো আক্রমণে বাম প্রান্ত থেকে বক্সের ভেতর বল বাড়ান নোয়াহ অ্যালেন। জটলার ভেতরও জায়গা পেয়ে যান মেসি। সরাসরি ভলিতে বল জালে জড়ান তিনি। চতুর্দশ মিনিটে ডাইভ দিয়ে মায়ামিকে রক্ষা করেন গোলকিপার রোকো রিওস নোভো। মায়ামি এগিয়ে যায় ২৬ মিনিটে। সেটিও অবদান রাখেন অ্যালেন। চমৎকার একটি থ্রু বল পেয়ে স্যান লুইসের রক্ষণভাগকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যান অ্যালেন এবং বলটি বাড়িয়ে দেন তেলাস্কো সেগোভিয়ার দিকে। যিনি কাছ থেকে শটে গোল করেন। প্রথমার্ধের শেষ ভাগে আরও দুটি গোল করে মায়ামি। মেসি তার দ্বিতীয় গোল পান ৪৪ মিনিটে। স্যান লুইসের রক্ষণভাগের জটলার মধ্যেও গোল করার পথ খুঁজে নেন তিনি। এখানেও বড় ভূমিকা অ্যালেনের। মেসি বল দেন বাঁপ্রান্তে থাকা অ্যালেনকে। তিনি বক্সের ভেতর ইয়ানিক ব্রাইটের দিকে বাড়ান বল। তবে ব্রাইট বল না ধরে ডামি করে ছেড়ে দেন, পেছনেই থাকা মেসি কাজ শেষ করেন চোখের পলকে। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের সপ্তম মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়ায় মায়ামি। মেসির মাপা কর্নার থেকে লাফিয়ে হেডে বল জালে পাঠান ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার মিকায়েল সিলভা। দ্বিতীয়ার্ধের ষষ্ঠ মিনিটে রাফা ইয়োরেন্তের দুর্দান্ত গোলে ম্যাচে ফেরার আশা জায়গায় স্যান লুইস। ভারী বৃষ্টিতে খেলাও বিঘ্নিত হয়। এরপর আর কোনো গোল করতে পারেনি কোনো দলই।


