শুরুর বাঁশি বাজতেই যে আক্রমণের ঝড় শুরু করল স্পেন, তা চলল একেবারে শেষ পর্যন্ত। ঘর সামলানোর শত চেষ্টা করেও, কিছু করতে পারল না অস্ট্রিয়া। মিকেল ওইয়ারসাবালের জোড়া গোলে অনায়াস জয়ে উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে পরের ধাপে পা রাখল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। সোফি স্টেডিয়ামে শেষ বত্রিশের ম্যাচটি ৩-০ গোলে জিতেছে স্প্যানিশরা। তাদের আরেক গোলদাতা পেদ্রো পররো। স্পেনের প্রথম গোলের পর, বাকিটা সময় লড়াই আরও একপেশে হয়ে পড়ে। সত্যিকার অর্থে, এক মুহূর্তের জন্যও ফল নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা জাগাতে পারেনি ৭২ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউটে ওঠা অস্ট্রিয়া, ম্যাচের পরিসংখ্যানেও সেটা স্পষ্ট। প্রায় ৬৫ শতাংশ বল দখলে রেখে, গোলের জন্য ২৩টি শট নিয়ে ১০টি লক্ষ্যে রাখতে পারে স্পেন। অস্ট্রিয়ার পাঁচ প্রচেষ্টার একটিও ছিল না লক্ষ্যে। ২০০৬ বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ডের পর, প্রথম ইউরোপিয়ান দল হিসেবে প্রতিযোগিতাটির কোনো আসরে প্রথম চার ম্যাচেই জাল অক্ষত রাখতে পারল স্পেন। কেইপ ভার্ডের বিপক্ষে হতাশাজনক গোলশূন্য ড্রয়ের পর, টানা তিন জয়ের পথে কোনো গোল না খেয়ে আটটি করল তারা। ৩৩ মিনিটে ওইয়ারসাবালের শট দারুণ নৈপুণ্যে ঝাঁপিয়ে আটকান আলেকসান্দা শ্লাগা। তিন মিনিট পর আর ব্যর্থ হননি ওইয়ারসাবাল। বাঁ দিক থেকে কুকুরেইয়ার পাস বক্সে পেয়ে প্রথম ছোঁয়ায় দুর্দান্ত প্লেসিং শটে বল জালে পাঠান অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড। এবার জায়গা থেকে নড়ার সুযোগ পাননি শ্লাগা। প্রথমার্ধে কেবল দুটি লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নিতে পারা অস্ট্রিয়াকে দ্বিতীয়ার্ধেও ঘর সামলাতে ব্যস্ত সময় কাটাতে হয়। ৭০ মিনিটে দারুণ পাসিং ফুটবলে শাণানো আক্রমণে ব্যবধান দ্বিগুণ করে স্পেন। কুকুরেইয়ার পাস বক্সে বাঁ দিকে পেয়ে ছয় গজ বক্সের বাইরে ক্রস বাড়ান অ্যালেক্স বায়েনা, ফাঁকায় বল পেয়ে জোরাল হেডে গোলটি করেন পেদ্রো পররো। বিশ্বকাপে এটাই তার প্রথম গোল। নির্ধারিত সময়ের এক মিনিট বাকি থাকতে সব অনিশ্চয়তার ইতি টেনে দেন ওইয়ারসাবাল। আবারও অ্যাসিস্টের ভূমিকায় কুকুরেইয়া। কিছুদিন আগে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়া এই লেফট-ব্যাকের থ্রু পাস বক্সে ধরে নিখুঁত প্লেসিং শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন রিয়াল সোসিয়েদাদ ফরোয়ার্ড। চার দশকে স্পেনের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের কোনো নকআউট ম্যাচে জোড়া গোল করলেন ওইয়ারসাবাল। এর আগে সবশেষ এই কীর্তি ছিল এমিলিও বুত্রাগুয়েনোর; ১৯৮৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় ডেনমার্কের বিপক্ষে ৫-১ গোলের জয়ে হ্যাটট্রিক করেছিলেন তিনি। গত বছর থেকে দারুণ ছন্দে এগিয়ে চলা ওইয়ারসাবালের বিশ্বকাপে গোল হলো চারটি; গ্রুপ পর্বে দ্বিতীয় ম্যাচে সৌদি আরবের জালেও জোড়া গোল করেন তিনি। জাতীয় দলের হয়ে তার মোট গোল হলো ২৯টি, ৫৭ ম্যাচে। ২০১০ আসরের ফাইনাল জয়ের পর, এই প্রথম বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচের জয়ের স্বাদ পেল স্পেন। একই সঙ্গে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ৩৪ ম্যাচ অপরাজিত রইল দলটি। চলতি বিশ্বকাপ শুরুর পর, সময়ের সঙ্গে যেন দলটির সবার মধ্যে বোঝাপড়া আরও ভালো হচ্ছে, তাতে আরও ধারাল হয়ে উঠছে বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়নরা। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে পর্তুগালের বিপক্ষে খেলবে স্পেন।


