“এত এত ম্যাচ লুকার সঙ্গে খেলেছি! আমরা দুজন প্রায় সমবয়সী। ও ফুটবলের কিংবদন্তি”, মদ্রিচকে নিয়ে বললেন রোনালদো। ম্যাচের পর ক্রোয়েশিয়ার ফুটবলারকে বুকে জড়িয়ে, পিঠ চাপড়ে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। সামনে লুকা মদ্রিচকে পেতেই গোটা আবহ যেন বদলে গেল। তারা পরস্পরের প্রতিপক্ষ তো স্রেফ খেলার সময়টুকু, বাকি সময়টায় দুজন বন্ধু। ম্যাচ শেষের ওই একটু সময়েও তা ফুটে উঠল। দুজন হাত মেলালেন, দুজনের গালে হাত দিয়ে কিছু বললেন, আলিঙ্গনে জড়ালেন…। একজনের বয়স ৪১, আরেকজনের ৪০। দুজনই নিজ দেশের সর্বকালের সেরা, বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে কিংবদন্তি। রিয়াল মাদ্রিদে একসঙ্গে খেলেছেন ছয় বছর। একসঙ্গে জিতেছেন চারটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। রোনালদোর কত কত গোলের উৎস এই মদ্রিচ! দুজনের যুগলবন্দি রিয়ালকে এনে দিয়ে অনেক স্মরণীয় মুহূর্ত। নিজ নিজ দেশের হয়েও রাঙিয়েছেন ম্যাচের পর ম্যাচ, হারিয়েছেন সময় আর বয়সকে। তবে বিশ্বকাপে দুজনের কোনো একজনের পথচলা এ দিন থামতেই হতো। নকআউটের ম্যাচ মানে যেমন রোমাঞ্চে টইটম্বুর, তেমনি এমন নিষ্ঠুর বাস্তবতাও। জয়ের হাসির পাশেই থাকে কান্নার গল্পও। এই ম্যাচেই যেমন, ক্রোয়েশিয়া আগে গোল করার পর রোনালদো চোখেমুখে ছিল রাজ্যের আঁধার। পরে রোনালদো গোলে পর্তুগাল সমতায় ফেরার পর মদ্রিচের হতাশাও ছিল স্পষ্ট। যোগ করা সময়ে যখন গোল করলেন গসালো রামোস, দেখা গেল মদ্রিচকে। মনে হচ্ছিল, গোটা দুনিয়া ভেঙে পড়েছে তার ওপর। ম্যাচ শেষে তো মনে হচ্ছিল, কেঁদেই ফেলবেন বুঝি। তবে কাঁদতে দেখা যায়নি তাকে। বরং মাতেও কোভাচিচ সহ দলের যারা কাঁদছিলেন, সবাইকে সান্ত্বনা দেন ক্রোয়েশিয়া অধিনায়ক। এবারের আসর থেকে এত দ্রুত ছিটকে পড়ায় ফুটবলার হিসেবে তার অবস্থান নড়ে যাচ্ছে না, আবেদন কমে যাচ্ছে না মোটেও। মাত্র ৩৯ লাখ মানুষের দেশ, বিশ্ব ফুটবলে যারা প্রতিষ্ঠিত শক্তি ছিল না, শীর্ষ কাতারে যাদের নাম আসত না, সেই দেশটি ২০১৮ বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলল আর ২০২২ আসরে হলো তৃতীয়, সেটি এই মদ্রিচের হাত ধরেই! রোনালদোও সেই সম্মান ও ভালোবাসার জায়গায় মদ্রিচকে রাখেন সবসময়। ম্যাচের আগেও দফায় দফায় দুজনের কথা হয়েছে, হাত মেলানো, বুকে জড়ানো, সব কিছুই দেখা গেছে। ম্যাচের পর মদ্রিচকে নিয়ে রোনালদোর কথাতেও তা ফুটে উঠল। “এত এত ম্যাচ লুকার সঙ্গে খেলেছি! আমরা দুজন প্রায় সমবয়সী। ও ফুটবলের কিংবদন্তি। আমি ওকে বলেছি, ‘সবকিছুর জন্য অভিনন্দন। তোমাকে সঙ্গে আমার দেখা হলে ভালো লাগবে। তোমার ক্যারিয়ারের পরের বছরগুলোর জন্য শুভকামনা।’ ওর সঙ্গে আবার খেলতে পারা ছিল দারুণ।” খেলা চালিয়ে যাওয়া বা থেমে যাওয়া নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত এখনও জানাননি মদ্রিচ। পর্তুগালের কাছে পরাজয়ের পর ক্রোয়েশিয়া কোচ জ্লাতকো দালিচ অবশ্য বলেছেন, ‘হয়তো’ এটিই শেষ বিশ্বকাপ মদ্রিচের। তবে চূড়ান্ত কিছু বলেননি তিনিও, “কেবল ঈশ্বরই জানেন, পরের চার বছরে কী হবে। দেখব আমরা। ক্রোয়েশিয়ায় ফিরে আমরা কথা বলব এটা নিয়ে।”


