এ যেন স্বপ্নপূরণের এক অবিশ্বাস্য রূপকথা। তার ফুটবল ক্যারিয়ার হলো এক চরম ধৈর্য ও কঠোর পরিশ্রমের কাহিনী। তিনি ভোজিনহা (Vozinha)। ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের সেরা আবিষ্কার।
কেপ ভার্দে (Cabo Verde) জাতীয় ফুটবল দলের মূল গোলকিপার ভোজিনহা (Vozinha)। আসল নাম জোসিমাঁ জোসে এভোরা দিয়াস (Josimar José Évora Dias)। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে তিনি ফুটবল বিশ্বে এক অবিস্মরণীয় রূপকথা তৈরি করে রাতারাতি ভাইরাল হয়ে গেছেন।
আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী স্পেনের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য ৭টি সেভ করে ম্যাচটি ০-০ গোলে ড্র রাখেন এবং ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ নির্বাচিত হন। এরপর রাউন্ড অব ৩২-এ আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ৩-২ গোলে হারলেও লিওনেল মেসির ৪টি নিশ্চিত গোল সহ মোট ৮টি অসাধারণ সেভ করে বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হন।
৪০ বছর বয়সে বিশ্বকাপে নিজের অভিষেক ম্যাচ খেলেন ভোজিনহা! যা যেকোনো দেশের জন্য প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচে অংশ নেওয়া সবচেয়ে বেশি বয়সী খেলোয়াড়ের রেকর্ড!
পর্তুগিজ ভাষায় ‘ভোজিনহা’ শব্দের অর্থ “ছোট দিদিমা/ঠাকুমা” (little granny)। শৈশবে দাদা-দাদির কাছে বড় হওয়ার কারণে তাঁর এই ডাকনাম দেওয়া হয়, যা তিনি জার্সিতেও ব্যবহার করেন।
ঐতিহাসিক পারফরম্যান্সের পর মাত্র কয়েক দিনে ২৫ থেকে ২৮ হাজার ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার নিয়ে বিশ্বকাপে আসা এই গোলকিপারের ফলোয়ার সংখ্যা এখন ২ কোটির (২০ মিলিয়ন) কাছাকাছি!
ভোজিনহা ছোটবেলায় কেপ ভার্দের সাও ভিসেন্তে দ্বীপে বড় হন। তিনি নিজের দ্বীপে অন্যতম সেরা গোলকিপার হওয়া সত্ত্বেও উচ্চতা কম হওয়ার কারণে শুরুর দিকে অনেক অবহেলার শিকার হন। অভাব ও সুযোগের অভাবে তিনি দীর্ঘ সময় সাধারণ লিগে খেলেন এবং ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত কোনো পেশাদার ফুটবলারই ছিলেন না। অবশেষে ২০১২ সালে ২৬ বছর বয়সে অ্যাঙ্গোলার ক্লাব প্রোগ্রেসো ডো সাম্বিজাঙ্গার সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে তাঁর প্রকৃত পেশাদার ক্যারিয়ার শুরু হয়। আন্তর্জাতিক স্তরের পাশাপাশি তিনি পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব শ্যাভস (Chaves)-এর হয়ে খেলেন।


