তৃতীয় টি-২০’তে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৪ রানে হারাল ভারত। অভিষেক শর্মার ধোঁয়াধার ৬৯ রান ও আর্শদীপের তিন উইকেটে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গেল টিম ইন্ডিয়া।
ইন্দোরে প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ১০ উইকেট হারিয়ে ২২৩ রান তুলেছিল ভারত। জবাবে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২০৯ রানের বেশি করতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
ভারতের হয়ে ব্যাট হাতে ঝড় তুললেন অভিষেক শর্মা ও ঈশান কিষান। বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিলেন আর্শদীপ সিং। তবে ভারতীয় দলের লোয়ার মিডল অর্ডারের ব্যর্থতা কিছুটা চিন্তায় রাখবে টিম ম্যানেজমেন্টকে।
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় ভারত। ওপেনার সঞ্জু স্যামসন মাত্র ৬ বলে ৩ রান করে ফিরে যান। তবে অন্য প্রান্তে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং চালিয়ে যান অভিষেক শর্মা। মাত্র ৩০ বলে ৬৯ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। তাঁর ব্যাট থেকে আসে একাধিক বাউন্ডারি ও ওভার বাউন্ডারি। এই ইনিংসের সুবাদে টি-২০ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২,০০০ রানের মাইলফলকও স্পর্শ করেন অভিষেক। মাত্র ১,০২৪ বলে এই কৃতিত্ব অর্জন করে দ্রুততম ব্যাটার হিসেবে নজির গড়েন তিনি।
অভিষেকের পর ভারতীয় ইনিংসের দায়িত্ব সামলান ঈশান কিষান। মাত্র ১৮ বলে ৩৭ রান করেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও একটি ছক্কা। তিলক বর্মাও দ্রুত রান তোলেন। ১৬ বলে ২৮ রান করে রান আউট হন তিনি। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে শতরান করা অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার এ দিন ব্যর্থ হন। মাত্র ২ বলে ১ রান করে ফিরে যান তিনি। শেষ দিকে অক্ষর প্যাটেল ১৪ বলে ২০ রান যোগ করেন। তবে লোয়ার মিডল অর্ডারের একাধিক ব্যাটারের ব্যর্থতায় বড় রানের সম্ভাবনা আরও বাড়াতে পারেনি ভারত।
ভারত ২০ ওভারে ১০ উইকেট হারিয়ে ২২৩ রান তোলে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে রস্টন চেজ, শামার জোসেফ এবং শামার স্প্রিঙ্গার গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন। প্রত্যেকেই দুটি করে উইকেট পান। স্প্রিঙ্গার ৪ ওভারে ৫০ রান খরচ করেন। বড় রান তাড়া করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে লক্ষ্য ছিল কঠিন, কিন্তু আগের ম্যাচে অপরাজিত শতরান করে দলকে জেতানো অধিনায়ক শাই হোপের উপর ভরসা ছিল ক্যারিবিয়ান শিবিরের।
রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মাত্র ৫ বলে ৫ রান করে আর্শদীপ সিংয়ের বলে বোল্ড হন শাই হোপ। তবে এরপর পাল্টা লড়াই শুরু করেন কামিল পুরান ও শিমরন হেটমায়ার। পুরান ২৭ বলে ৪২ রান করেন। অন্যদিকে, হেটমায়ারের ব্যাট থেকে আসে ২৬ বলে ৪৩ রান। তাঁর ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ২টি ছক্কা। এই জুটি ওয়েস্ট ইন্ডিজকে লড়াইয়ে ফিরিয়ে আনে। কিন্তু প্রয়োজনীয় রানরেটের চাপ ক্রমশ বাড়তে থাকায় শেষ পর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেনি ক্যারিবিয়ানরা।
হেটমায়ার ও পুরান আউট হওয়ার পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসে বড় অবদান রাখতে পারেননি অধিনায়ক রভম্যান পাওয়েল। মাত্র ৭ বলে ৫ রান করে ফিরে যান তিনি। একের পর এক উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় ক্যারিবিয়ান দল। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২০৯ রানেই থামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস। ফলে ১৪ রানে জয় পায় ভারত। পাঁচ ম্যাচের সিরিজে এই জয়ের ফলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গেল টিম ইন্ডিয়া।


