ফের ভরাডুবি! দ্বিতীয় ইনিংসেও! ১২০ রানে শেষ লড়াই! রঞ্জি ট্রফির প্রথম ম্যাচটা সোয়া দুইদিনেই খতম করলো ত্রিপুরা! হারলো ইনিংস ও ৪০ রানের বিশাল ব্যবধানে!
জাতীয় ক্রিকেটে একেবারে লজ্জার পরাজয়। হায়দ্রাবাদের জিমখানা মাঠে ফের লুটিয়ে পড়লো! এটা যে হতে পারে এর পথ তৈরি করে দেন ক্রিকেট সংস্থার কর্তারা। মাত্র ১০ দিন আগে দলের ঘোষণা দিয়ে দু’তিন দিনের নিয়মরক্ষার প্রস্তুতিতে এর থেকে ভালো কিছু আশা করা যায় না।
দ্বিতীয় দিনের শেষেই রাজ্যদলের পরাজয় অনেকটা নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। মঙ্গলবার নিয়মরক্ষার খেলায় নেমেছিল শেষ তিন জুটি। ফলোঅন বাঁচাতে ৫৪ রানের প্রয়োজন ছিল। লড়াইয়ের ছিটেফোঁটাও দেখা গেলো না। ১৪ রান যোগ করার ফাঁকে গুটিয়ে যায় ইনিংস! শেষ হয় ১২০ রানে। এর আগে ত্রিপুরার ১৩৪ রানের জবাবে স্বাগতিক হায়দ্রাবাদ ২৯৪ রান করেছিল।
মরশুমের শুরুতে ওই হতাশা জনক পারফরমেন্সের জন্য রাজ্যের ক্রিকেটপ্রেমীরা দায়ী করেছেন রাজ্য সংস্থার কর্তাদের। এবছর কোনরকম প্রস্তুতি ছাড়াই জাতীয় আসরে খেলার জন্য ত্রিপুরা দল পাঠিয়েছিলেন রাজ্য সংস্থার কর্তারা। টিসিএ কর্তারা জানিয়েছিলেন, “ওরা তো খেলার মধ্যেই ছিল”। কোন খেলায় ছিল একটু জানালে রাজ্যবাসী উপকৃত হতেন।
আসলে এবার দলগঠন নিয়ে বিভিন্ন বিতর্ক এখন সামনে আসছে। জেসি লিগ শেষ হওয়ার পর ১০ দিনের মতো সময় নষ্ট হয় ক্লাবগুলোর স্বার্থ দেখতে গিয়ে। হঠাৎ করেই ক্লাব ক্রিকেটের দলবদলের ঘোষণা দেয়া হয়। ওই দলবদল নিয়ে কিছু ক্লাব ক্রিকেটারদের রঞ্জি দলে ও অনূর্ধ্ব ২৩ রাজ্যদলের ঢোকানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্রিকেটার জালে তোলার খেলায় মেতে উঠেন! ফলে পুরো সেপ্টেম্বর মাস দিয়ে যায়। রঞ্জি ও নাইডু দল ঘোষণা আগে হলে ওই ক্রিকেটাররা ক্লাবগুলোর কথা শুনতে না। বেশ কিছু ক্রিকেটারকে এমন প্রলোভন দেয়া হয় রঞ্জি বা নাইডু দলে ঢুকিয়ে দেয়া হবে, পরিবর্তে তারা ক্লাব থেকে কম টাকা পাবে। এই ঘটনা এখন প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। ক্লাবগুলোর নোংরমির শিকার হয় বেশ কিছু ক্রিকেটারকে! যার খেসারত মরশুমের প্রথম ম্যাচে দিতে হয়েছে ত্রিপুরাকে।
এদিন, শেষ দিকে সেন্টু সরকার ৭৪ বল-এ তিনটি বাউন্ডারির সাহায্যে ২৭ এবং পারভেজ সুলতান ৩৩ বল-এ দুটি বাউন্ডারির সাহায্যে ১৫ রান করেন। হায়দ্রাবাদের তনয় ৫২ রানের ছয়টি এবং মোঃ সিরাজ ১৯ রানে দুটি উইকেট ভাগ করেন। সন্দীপের দাপটে প্রথম ইনিংসে তেমন বড় স্কোর গড়তে পারেনি স্বাগতিক হায়দ্রাবাদ। এই বোলার বিপক্ষের আটটি উইকেট তুলে নেন। ১৮-২১ অক্টোবর ত্রিপুরা দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে আসামের বিরুদ্ধে। গুয়াহাটিতে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি। ওই ম্যাচে কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে ত্রিপুরা এটাই প্রশ্ন।
ক্রিকেট সংস্থার কর্তাদের ক্লাব প্রীতির কারনে রঞ্জি’র লড়াইয়ে মুখ পুড়লো ত্রিপুরার!
Date:
Share post:


