জয় নিয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করা ফ্রান্স নকআউট পর্বের দুটি ধাপও উৎরে গেছে। কিলিয়ান এমবাপের সফল স্পট কিকে প্যারাগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়েছে গত দুই আসরের ফাইনালিস্টরা। এতে রেকর্ডের বেশ কিছু পাতায় পড়েছে আঁচড়। পেনাল্টি থেকে কিলিয়ান এমবাপের করা গোলটি বিশ্বকাপের ফ্রান্সের ১৫০ গোল। এই মাইলফলক স্পর্শ করা চতুর্থ দল ফরাসিরা। আগে থেকেই এই ক্লাবে আছে ব্রাজিল, জার্মানি ও আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপে টানা পাঁচ ম্যাচ জিতল ফ্রান্স। নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে বিশ্ব মঞ্চে এই প্রথম এমন কীর্তি গড়ল তারা। দুটি ভিন্ন বিশ্বকাপে সাত কিংবা এর বেশি গোল করতে পেরেছেন কেবল দুই জন ফুটবলার। কেপ ভার্দের বিপক্ষে এবারের আসরে নিজের সপ্তম গোলটি করেন লিওনেল মেসি। আর প্যারাগুয়ের বিপক্ষে মেসিকে স্পর্শ করেন কিলিয়ান এমবাপে। চার বছর আগের বিশ্বকাপে ৮টি গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন এমবাপে। আর দলকে বিশ্বকাপ জেতানোর পথে সাতটি গোল করেছিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা মেসি। বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে এনিয়ে ১১টি গোল করলেন এমবাপে। ব্রাজিলের গ্রেট রোনালদোর চেয়ে তিন গোলে এগিয়ে রেকর্ডটি আরও সমৃদ্ধ করলেন ফরাসি তারকা। বিশ্বকাপে এমবাপের গোল হলো ১৯টি। তালিকায় শীর্ষে থাকা লিওনেল মেসির গোল ২০টি। তিনটি ভিন্ন বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তিন বা তার বেশি গোল করা একমাত্র ফুটবলার এমবাপে। দুটি বিশ্বকাপের নকআউটে তিনটি বা এর বেশি গোল করতে পেরেছেন কেবল তিনজন – ব্রাজিলের ভাভা ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে, ইংল্যান্ডের গ্যারি লিনেকার ১৯৮৬ ও ১৯৯০ সালে এবং আরেক ব্রাজিলিয়ান রোনালদো ১৯৯৮ ও ২০০২ সালে বিশ্বকাপ ইতিহাসে এনিয়ে সাতটি ম্যাচ জেতানো গোল করলেন কিলিয়ান এমবাপে। এর মাধ্যমে পোল্যান্ডের কিংবদন্তি জেগোশ লাতোর সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্ব মঞ্চে সবচেয়ে বেশি ব্যবধান গড়ে দেওয়া গোল করার রেকর্ড স্পর্শ করলেন তিনি।
ফ্রান্সের কোচ হিসেবে বিশ্বকাপে এনিয়ে ১০টি নকআউট ম্যাচ জিতলেন দিদিয়ে দেশম। বিশ্বকাপের ইতিহাসে যা সর্বোচ্চ।
ফ্রান্সের বিপক্ষে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে কেবল ৯৯টি সফল পাস দিতে পেরেছে প্যারাগুয়ে, বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে যা সর্বনিম্ন। তবে এটা এই বিশ্বকাপে তাদের সর্বনিম্ন নয়; তুরস্কের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে জেতা গ্রুপ পর্বের ম্যাচে মাত্র ৯৬টি পাস সম্পূর্ণ করেছিল লাতিন আমেরিকার দলটি।
প্যারাগুয়ে তাদের চেষ্টা করা ১৮৩টি পাসের মধ্যে মাত্র ৫৪% সফল করতে পেরেছে। গত ৬০ বছরের ইতিহাসে বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে এটিই সর্বনিম্ন পাসিং অ্যাকুরেসির রেকর্ড।


