এমবাপের জোড়া গোলে বার্সেলোনার মাঠে রিয়াল

Date:

Share post:

ম্যাচ জুড়ে বল দখলের পাশাপাশি আক্রমণে আধিপত্য দেখালো বার্সেলোনা। সৌভাগ্যের ছোঁয়ায় এগিয়ে গেল রিয়াল মাদ্রিদ। বিরতির পর ম্যাচে ফেরার উপলক্ষ পেল হান্সি ফ্লিকের দল। কিন্তু শেষ দিকে তারা হজম করল আরেকটি গোল। কিলিয়ান এমবাপের জোড়া গোলে দারুণ জয়ে শিরোপাধারীদের সঙ্গে ব্যবধান কমাল জুজে মরিনিয়োর দল।
কাম্প নউয়ে মরশুমে প্রথম ক্লাসিকোয় লা লিগার ম্যাচটি ২-১ গোলে জিতেছে রিয়াল। স্বাগতিকদের একমাত্র গোলটি করেছেন হাফিনিয়া।
এবারের লা লিগায় ৯ জয়ের পর প্রথম ও সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা দ্বিতীয় হারের তেতো স্বাদ পেল বার্সেলোনা। গত মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পিএসজির মাঠে ৪-২ গোলে হেরেছিল স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচের আগে ঘরের মাঠে ফেভারিট ছিল বার্সেলোনাই। তবে সব হিসাব পাল্টে দিল রিয়াল। ১৩ বছর পর মরিনিয়োর ক্লাসিকোয় ফেরার উপলক্ষ রাঙালেন এমবাপেরা। এ দিন দলটির হয়ে গোলের সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ফরাসি তারকা।
১০ ম্যাচে আট জয়ে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলে আগের মতো তিন নম্বরেই আছে রিয়াল। তাদের চেয়ে ১ পয়েন্ট বেশি নিয়ে দুইয়ে আতলেতিকো মাদ্রিদ। ২৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে বার্সেলোনা। ম্যাচে ৬২ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে গোলের জন্য ১৮টি শট নিয়ে ছয়টি লক্ষ্যে রাখতে পারে বার্সেলোনা। রিয়ালের ১০ শটের পাঁচটি লক্ষ্যে ছিল।
ম্যাচের কয়েক ঘন্টা আগে বড় ধাক্কা খায় রিয়াল। অসুস্থতায় মহারণ থেকে ছিটকে যান দলটির মূল গোলরক্ষক তিবো কোর্তোয়া। শুরু থেকে বল দখলে রেখে খেলে বার্সেলোনা। দলটির একটি ভুলের সুযোগে বল পেয়ে পঞ্চম মিনিটে ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকেন আর্দা গুল্যার। তবে শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি রেয়াল মিডফিল্ডার। দুই পক্ষে আক্রমণ পাল্টা আক্রমণ চললেও, গোলরক্ষককে খুব একটা পরীক্ষায় ফেলার মতো কিছু করতে পারছিল না কেউ। প্রথম ১৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের দুটি শট সহজেই ঠেকান মরশুমে প্রথমবার রিয়ালর পোস্ট সামলাতে নামা আন্দ্রি লুনিন। ১৯ মিনিটে প্রথম কোনো শট লক্ষ্যে রাখতে পারে রিয়াল। বক্সের বাইরে থেকে গুল্যারের নিচু শট ঠেকান গোলরক্ষক জোয়ান গার্সিয়া। ২২ মিনিটে পেদ্রির দারুণ নৈপুণ্যের পর বল পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে উড়িয়ে মারেন বার্সেলোনা অধিনায়ক হাফিনিয়া। ২৪ মিনিটে ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে বলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এমবাপে। পরক্ষণেই অন্য প্রান্তে আরেকটি সুযোগ পান হাফিনিয়া। গর্ডনের ব্যাকহিল ফ্লিকে বল পেয়ে পোস্টের বাইরে দিয়ে মারেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।
চোটের কারণে আগেই কয়েকজন খেলোয়াড় হারানো বার্সেলোনা ৩০ মিনিটে খায় আরেক ধাক্কা। প্রতিপক্ষের অহেলিয়া চুয়ামেনির সঙ্গে বল দখলের লড়াইয়ে পায়ে আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়েন তরুণ ডিফেন্ডার শাভি এস্পার্ত। তার বদলি নামেন আলেহান্দ্রো বাল্দে। ৩৩ মিনিটে একটি হাফ চান্স পান এমবাপে। গুল্যারের ক্রসে বক্সে ছুটে গিয়ে ভলি লক্ষ্যে রাখতে পারেননি ফরাসি তারকা। পরের মিনিটে কাছের পোস্টে গর্ডনের শট হাত বাড়িয়ে ঠেকান লুনিন। ৪১ মিনিটে বার্সেলোনার ভুলে আর ভাগ্যের ছোঁয়ায় এগিয়ে যায় রিয়াল। বক্সে ইয়ান ডিওমান্ডের পাস ক্লিয়ার করার চেষ্টায় বার্সেলোনা ডিফেন্ডার জেরার্দ মার্তিন বল মেরে বসেন ছুটে যাওয়া এমবাপের পায়ে, সেই বল জড়িয়ে যায় জালে! দুই মিনিট পর দলকে সমতায় ফেরানোর সুবর্ণ সুযোগ হারান ইয়ামাল। ছয় গজ বক্সের কোণায় ফাঁকায় বল পেয়ে ওয়ান-অন-ওয়ানে বাইরে মারেন স্প্যানিশ তারকা। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ নষ্ট করেন ডিওমান্ডে। বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে পাশের জালে বল মারেন আইভরি কোস্টের উইঙ্গার।
ম্যাচে ফিরতে দ্বিতীয়ার্ধে মরিয়া হয়ে খেলে বার্সেলোনা। রিয়াল চেষ্টা করে যায় ব্যবধান বাড়ানোর। ৬১ মিনিটে গোলের দেখা পায় বার্সেলোনা। কর্নারে পেদ্রি বল পেয়ে বক্সে বাড়ান হাফিনিয়াকে। ব্রাজিলিয়ান তারকার শট ঝাঁপিয়ে পড়া লুনিনের হাত ছুঁয়ে জালে জড়ায়। চলতি লা লিগার সর্বোচ্চ স্কোরার হাফিনিয়ার গোল হলো ১০ ম্যাচে ১৩টি। পাঁচ মিনিট পর এগিয়েও যেতে পারত বার্সেলোনা। কর্নারে মার্তিনের জোরাল হেড জালে জড়াতে যাওয়ার মুখে ঝাঁপিয়ে শেষ মুহূর্তে এক হাতে বল ফিরিয়ে দেন লুনিন। ৭৮ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে ইয়ামালের শট পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যায়। ড্রয়ের পথে যখন এগোচ্ছিল ম্যাচ, তখন নির্ধারিত সময়ের তিন মিনিট বাকি থাকতে ব্যবধান গড়ে দেন এমবাপে। মাঝমাঠে দারুণ নৈপুণ্যে ব্যাকহিল ফ্লিকে জুড বেলিংহ্যাম বল দেন মিনিট সাতেক আগে বদলি নামা এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গাকে। সেখানে গুল্যারকে পাস দিয়ে এগিয়ে যান ফরাসি মিডফিল্ডার। এরপর সতীর্থের ফিরতি পাস ধরে বক্সে ঢুকে প্রতিপক্ষের একজনের বাধা এড়িয়ে কাট-ব্যাক করেন তিনি। গোলরক্ষক আগেই পোস্ট ছেড়ে অন্য পাশে চলে আসায় ফাঁকা জালে বল পাঠান এমবাপে। গোলের পর ডাগআউটের পাশে হাঁটু গেড়ে কিছুটা স্লাইড করে উদযাপন করেন মরিনিয়ো। চলতি মরশুমে লা লিগায় ১০ ম্যাচে এমবাপের গোল হলো ১১টি। রিয়ালের জার্সিতে সব মিলিয়ে ১১৬ ম্যাচে শত গোলের মাইলফলক স্পর্শ করলেন ২৭ বছর বয়সি এই ফরোয়ার্ড।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

Related articles

দুই ওপেনারের ব্যাটিংয়ে গর্বিত দল : শ্রেয়াস

দু’ম্যাচ বাকি থাকতেই নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-২০ সিরিজ জয় করে নিল ভারত। নিউ জ়িল্যান্ডের মাটিতে কিউইজদের বিরুদ্ধে শ্রেয়াস আয়ারদের...

রেকর্ড ভেঙে রেকর্ড গড়ে অনন্য অভিষেক

৩৫ বলে সেঞ্চুরি । ৩৮ বলে ১১৩। ৯টি বাউন্ডারি , ১১টি ওভার বাউন্ডারি। ওয়েলিংটনের ২২ গজে নিউ জ়িল্যান্ডের...

‘ফিল্ডিং’র সময়েই বৈভবকে নিয়ে পরিকল্পনা সাজিয়েছিলাম’ : অভিষেক

মাত্র ৩৫ বলে শতরান করেছেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের তরুণ তুর্কি ওপেনার অভিষেক শর্মা । নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তৃতীয় টি-২০...

১৩৭ রানে শেষ নাইডু রাজ্যদল!

১৩৭ রানে শেষ অনূর্ধ্ব-‌২৩ কর্ণেল সিকে নাইডু ট্রফির রাজ্যদল! ভুল সিদ্ধান্তের খেসারত দিতে হয়েছে দলকে? টানা ৩ দিন...