মালয়েশিয়াকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে এশিয়ান গেমসের পুরুষদের হকিতে সোনা জিতল ভারত। কাকামিগাহারাতে এই ফাইনালে দাপুটে জয় তুলে নিয়ে ভারতীয় পুরুষ হকি দল শুধু নিজেদের খেতাবই রক্ষা করেনি, সেই সঙ্গে ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের টিকিটও নিশ্চিত করেছে।
ইতিহাসে এই প্রথমবার ভারত এশিয়ান গেমসের পুরুষ হকিতে টানা দুবার (ব্যাক-টু-ব্যাক) সোনা জয়ের কীর্তি গড়ল।
ফাইনালে ম্যাচের শুরু থেকেই বিশ্ব র্যাংকিংয়ের ৮ নম্বরে থাকা ভারত আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলা শুরু করে। খেলার ১১ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে দুর্দান্ত ড্র্যাগ-ফ্লিকে ভারতকে ১-০ গোলে এগিয়ে দেন অধিনায়ক হরমনপ্রীত সিং। তবে মালয়েশিয়াও সহজে ছেড়ে দেয়নি। এর ঠিক তিন মিনিট পরেই ১৪ মিনিটে একটি ফিল্ড গোল করে শ্যালো সিলভেরিয়াস মালয়েশিয়াকে ১-১ সমতায় ফেরান।
দ্বিতীয় কোয়ার্টারে ভারতের আক্রমণের ধার আরও বেড়ে যায়। ২৩ মিনিটে ভারতের দ্বিতীয় পেনাল্টি কর্নার আসে এবং সেখান থেকে নিখুঁত ফ্লিকে গোল করতে ভুল করেননি যুগরাজ সিং। ভারত ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে।
বিরতির পর মালয়েশিয়া ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও ভারতের জমাট ডিফেন্সের সামনে সুবিধা করতে পারেনি। ৪২ মিনিটে পেনাল্টি স্ট্রোক পায় ভারত। সহ-অধিনায়ক হার্দিক সিং শান্ত মাথায় গোলরক্ষককে পরাস্ত করে স্কোরলাইন ৩-১ করেন।
শেষ কোয়ার্টারে মালয়েশিয়াকে সম্পূর্ণ কোণঠাসা করে দেয় টিম ইন্ডিয়া। ৫৪ মিনিটে ভারতের পক্ষে চতুর্থ গোলটি করেন শিলাানন্দ লাকরা। আর ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে ৫৭ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের পঞ্চম গোলটি করে মালয়েশিয়ার কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দেন অধিনায়ক হরমনপ্রীত।
সেমিফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠা ভারতের এই সোনা জয়টি হকির ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যুক্ত করেছে। এর আগের দিন ভারতীয় মহিলা হকি দলও চীনকে ১-০ গোলে হারিয়ে সোনা জিতেছিল। ফলে এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে এই প্রথমবার ভারত একই সংস্করণে পুরুষ ও মহিলা উভয় বিভাগেই হকি থেকে জোড়া সোনা অর্জন করল।


