ইন্ডিয়ান সুপার লিগে দুটি খেলায় স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লি ও এফসি গোয়া জয় পেয়েছে। মুম্বই সিটি এফসি ২-৩ গোলে হেরে যায় স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লির কাছে। অপরদিকে, ইন্টার কাশী এফসিকে ২-১ গোলে হারায় এফসি গোয়া।
মুম্বই ফুটবল অ্যারেনায় আয়োজিত ম্যাচে স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লি শেষের ২০ মিনিটে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন ঘটিয়ে মুম্বই সিটি এফসি-কে ৩–২ গোলে পরাজিত করেছে।
প্রথমার্ধে মুম্বই সিটি এফসি সম্পূর্ণ আধিপত্য বিস্তার করে। ম্যাচের ৬ মিনিটে মুহাম্মদ আজসালের গোল এবং ২৭ মিনিটে জথানপুইয়ার গোলে মুম্বই ২–০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। তবে দ্বিতীয়ার্ধে স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লি আক্রমণাত্মক ফুটবল শুরু করে। ৭৩ মিনিটে কার্লোস ফোর্টেস গোল করে দিল্লির হয়ে ব্যবধান কমান। এরপর ম্যাচ যখন শেষের মুখে, তখন ইনজুরি টাইমে (৯২ মিনিটে) অক্ষত মেহরা দুর্দান্ত কার্লিং শটে সমতা ফেরান (২–২)। ঠিক তার দু’মিনিট পর (৯৪ মিনিটে) হুয়ান পেনা জয়সূচক গোলটি করে দিল্লির অবিশ্বাস্য জয় নিশ্চিত করেন।
ম্যাচের শেষে কোচ দলের ফুটবলারদের লড়াকু মানসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি জানান, ২–০ গোলে পিছিয়ে থাকার পরও খেলোয়াড়রা হাল ছাড়েনি এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলার ফল তারা পেয়েছে। বিশেষ করে অতিরিক্ত সময়ে যেভাবে তরুণ ফুটবলাররা চাপ সামলে গোল করেছে, তা প্রশংসনীয়।
মুম্বই সিটির কোচ মানোলো মার্কেজ ঘরের মাঠে এই হারে অত্যন্ত হতাশ প্রকাশ করেছেন। তিনি রক্ষণভাগের ভুলের কথা স্বীকার করেন। প্রথমার্ধে চালকের আসনে থাকা সত্ত্বেও শেষ ২০ মিনিটে দলের মনসংযোগের অভাব ও ফিজিক্যাল ফুটবলের কাছে পরাস্ত হওয়াকে তিনি এই হারের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
অপরদিকে, একানা আন্তর্জাতিক ফুটবল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে এফসি গোয়া ২–১ গোলে ইন্টার কাশী এফসি-কে হারিয়ে ৩ পয়েন্ট তুলে নিয়েছে। খেলার প্রথমার্ধে ৩৫ মিনিটে ফ্রান্সিসকো ফিউইলাসিয়ারের গোলে এগিয়ে যায় এফসি গোয়া। তবে বিরতির পর ৫১ মিনিটে ইন্টার কাশীর অভিজ্ঞ ফুটবলার সুমিত পাসি গোল করে ম্যাচ ১–১ সমতায় ফিরিয়ে আনেন। সমতা ফেরার পর দু’দলই জয়সূচক গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। অবশেষে ৬৬ মিনিটে গোয়ার পক্ষে ‘চিকি’ জয়সূচক গোলটি করে দলের জয় নিশ্চিত করেন।
গোয়ার কোচ এই অ্যাওয়ে জয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ইন্টার কাশী ম্যাচে সমতা ফেরানোর পর ম্যাচটি কঠিন হয়ে উঠেছিল, কিন্তু ফুটবলাররা ঠান্ডা মাথায় সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল বের করতে পেরেছে। লিগ টেবিলের উপরের দিকে যাওয়ার জন্য এই জয়টি দলের আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দেবে। ঘরের মাঠে হারের পর ইন্টার কাশীর প্রধান কোচ জানান, গোল হজম করার পর দল যেভাবে ম্যাচে ফিরে এসেছিল তা ইতিবাচক। তবে রক্ষণের ছোট ভুলের কারণে দ্বিতীয় গোলটি খেতে হয়েছে। লিগের তলানি থেকে উঠে আসতে হলে দ্রুত এই ভুলগুলো শুধরে নিয়ে ডিফেন্সকে আরও মজবুত করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।


