জাতীয় আসরে খেলতে যাওয়া রাজ্য দলে বাঁকা পথে হকি খেলোয়াড় ঢুকিয়ে দেয়া এবং এর পেছনে মোটা অঙ্কের টাকার কেলেঙ্কারি সামনে আসায় শোকজ করা হলো রাজ্যদলের কোচ এবং ম্যানেজারকে। আগামী সাত দিনের মধ্যে শোকজ এর জবাব দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে কোচ রাজু ব্রহ্ম এবং ম্যানেজার আশীষ দেব-কে। আশীষ আবার ত্রিপুরা ক্রীড়া পর্ষদের স্টাফ! তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটুরে ১৬তম জাতীয় জুনিয়র হকি প্রতিযোগিতায় অবৈধভাবে তিনজন ভিন রাজ্যের হকি খেলোয়াড়কে ত্রিপুরা দলে ঢুকিয়ে লেজে গোবরে রাজ্য সংস্থা। এ খবর ছড়িয়ে পড়তেই ত্রিপুরা অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে শোকজ করা হয় হকি ত্রিপুরা সংস্থার সচিব দেবাশিস ভৌমিক। বৃহস্পতিবার শোকজের জবাব দেন হকির ত্রিপুরা সংস্থার সচিব। সচিব দেবাশীষ ভৌমিক জানান, তাঁর অগোচরে খেলানো হচ্ছে তিন ভিন রাজ্যের খেলোয়াড়কে। যা তিনি বরদাস্ত করেননি। তাই ত্রিপুরা দলের কোচ এবং ম্যানেজারকে শোকজ করেছেন এবং সাত দিনের মধ্যে শোকজের জবাব দিতে বলেছেন। যতটুকু খবর, বিগত সময়েও এমন ঘটনা কয়েকবার ঘটেছিল। পরে ক্ষমা চেয়ে রেহাই পেয়েছিলেন ম্যানেজার আশিস দেব এবং জনৈক কোচ লক্ষণ দেব। যতটুকু খবর এবার করা পদক্ষেপ নিতে চলেছেন হকি ত্রিপুরা সংস্থার কর্তারা। শুক্রবার আসরে ত্রিপুরা শেষ প্রতিপক্ষ ছিল গুজরাট। রাজ্য সংস্থার সচিব বাধ্য করেছেন কোচ এবং ম্যানেজারকে স্থানীয়দের নিয়ে যাতে ওই ম্যাচে খেলানো হয়। চাপে পড়ে ত্রিপুরা দলের কোচ এবং ম্যানেজার স্থানীয়দের প্রথম একাদশে খেলান। প্রশ্ন উঠেছে, কার নির্দেশে ভিন রাজ্যের খেলোয়াড়দের ত্রিপুরা দলে সুযোগ করে দিলেন কোচ এবং ম্যানেজার? এর পেছনে কি রহস্য? বড় অঙ্কের আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, শোকজ করা হচ্ছে প্রাক্তন খেলোয়াড় রাজু ঘোষকেও। গত বছর আসামে অনুষ্ঠিত অস্মিতা স্মৃতি মহিলা হকি প্রতিযোগিতায় ত্রিপুরা দলের ম্যানেজার ছিলেন রাজু এবং কোচ ছিলেন লক্ষণ দেব। যতটুকু খবর, ওই রাজ্য থেকে ফেরার সময় খেলোয়াড়দের থেকে দু হাজার টাকা করে নিয়েছিলেন কোচ এবং ম্যানেজার। যে টাকা এখনও ফেরত দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি মারাত্মক অভিযোগ এসেছে, কোচ এবং ম্যানেজার একদিন রাতে মদমত্ত অবস্থায় মেয়েদের ঘরে ঢুকে পড়েছিলেন। শুধু তাই নয়, গুয়াহাটি থেকে ফেরার সময় ত্রিপুরা ভবনের টাকাও মিটিয়ে দেননি দলের ম্যানেজার। পরে ক্রীড়া দপ্তর থেকে তা জানানো হয়েছিল রাজ্য সংস্থার সচিবকে। ওই অবস্থায় সচিব এবং কোষাধ্যক্ষ রাজেশ ঘোষ নিজের পকেট থেকে টাকা দিয়ে রেহাই পেয়েছিলেন। এ নিয়ে আগেই শোকজ করা হয়েছিল দলের কোচ ও ম্যানেজারকে। কিন্তু সেই শোকজের জবাব মনমত হয়নি। তাই পুনরায় শোকজ করানো হচ্ছে ম্যানেজারকে। বিশ্বস্ত সূত্রে খবর, ওই তিনজনের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে হকি ত্রিপুরা সংস্থা।
এদিকে জাতীয় আসরে খেলোয়াড়দের রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে অনলাইনে ওটিপি পাঠিয়ে রাজ্য সংস্থার অনুমতি নেয়া হয়। এটাই নিয়ম। এমনটা হলে রাজ্য সংস্থার সচিবও দায় এড়াতে পারেন না। সব মিলিয়ে গোটা বিষয়ে তদন্ত হলে কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ বেড়িয়ে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। বাকিটা সময় বলবে।
হকি সংস্থার কুকীর্তি! অভিযোগের পাহাড়! লেনদেনে যুক্ত কোচ, ম্যানেজার!
Date:
Share post:


