পেনাল্টি শুটআউটে মিশরের চতুর্থ শটে বল জালে পাঠিয়েই জার্সি খুলে ফেললেন হোসাম আব্দেলমেগিদ। এক ছুটে কর্নার ফ্ল্যাগের কাছে গিয়ে লাফিয়ে হুঙ্কার ছাড়লেন তিনি। মাঝমাঠ থেকে ছুটে গেলেন সতীর্থরা। ডাগআউট থেকে ছুটলেন অন্যরা। একেকজন লাফিয়ে পড়লেন আব্দেলমেগিদের ওপরে। চলে তাদের উল্লাস। মিশরীয় ফুটবলে লেখা হলো নতুন ইতিহাস – বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে প্রথম জয়! শেষ বত্রিশের ম্যাচে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে ১-১ সমতার পর, টাইব্রেকারে ৪-২ গোলে জিতেছে মিশর। ৯২ বছর পর, এবার বিশ্বকাপের নকআউটে পর্বে ওঠে আফ্রিকার দলটি। এখন নকআউটে প্রথম জয়ও পেল তারা। এর আগে বিশ্বকাপে একটিই নকআউট ম্যাচ খেলেছিল ‘ফারাও’ নামে পরিচিত দলটি। ১৯৩৪ সালে হাঙ্গেরির বিপক্ষে শেষ ষোলোয় ৪-২ গোলে হেরেছিল তারা। সেবার অবশ্য কোনো গ্রুপ পর্ব ছিল না, সরাসরি নকআউট। অস্ট্রেলিয়ার নকআউটে জয়ের অপেক্ষা বাড়ল আরও। এর আগে দুইবার শেষ ষোলোয় হেরেছিল তারা – ২০০৬ সালে ইতালির বিপক্ষে ১-০ গোলে ও ২০২২ সালে আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ গোলে। মূল ম্যাচে খুব বেশি সুযোগ তৈরি করতে পারেনি কোনো দলই। মিশর এগিয়ে যায় শুরুতেই। দ্বিতীয়ার্ধে আত্মঘাতী গোলে সমতায় ফেরে অস্ট্রেলিয়া। সেই স্কোরলাইন অপরিবর্তিত থাকে অতিরিক্ত সময়েও। টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়ার চার শটের দুটি ব্যর্থ হয় – একটি উড়ে যায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে, একটি লাগে ক্রসবারে। মিশরের চার শটের সবকটিই খুঁজে পায় ঠিকানা। ১২০ মিনিটের লড়াইয়ে জ্বলে উঠতে না পারলেও, টাইব্রেকারে পানেনকা শটে বল জালে পাঠান মিশর ফুটবলের পোস্টার বয় ও সেরা তারকা মোহামেদ সালাহ। জয়ের পর গ্যালারিতে সমর্থকদের সঙ্গে আনন্দে মেতে ওঠেন মিশরের ফুটবলাররা। সালাহর চোখে দেখা যায় আনন্দাশ্রু।


