গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের পদক জয়ের দাপট অব্যাহত। সোমবার গভীর রাতে ঝুলিতে এল আরও চারটি পদক। এর মধ্যে একটি সোনা, দু’টি রুপো, একটি ব্রোঞ্জ। সব মিলিয়ে ভারতের মোট পদক দাঁড়ালো ১০টিতে।
প্যারা শটপুটে সোনা জিতেছেন শর্মিলা ধনখড়। একই ইভেন্টে ব্রোঞ্জ পেয়েছেন শিল্পা কে শায়লা। পুরুষদের হাই জাম্পে সকলকে চমকে দিয়ে রুপো জিতেছেন সর্বেশ অনিল কুশার। ভারোত্তোলনে ভল্লুরি অজয় বাবুর উপরে অনেক আশা করেছিলেন ক্রীড়াপ্রেমীরা। হতাশ করেননি তিনি। ৭৯ কেজি বিভাগে রুপো জিতেছেন অজয়।
মহিলাদের এফ-৫৭ প্যারা শটপুটে ৯.৮১ মিটার থ্রো করে সোনা জিতেছেন শর্মিলা ধনখড়। ২০২২ সালে অল্পের জন্য পদক হাতছাড়া হলেও এ বার কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জিতে স্বপ্নপূরণ করলেন তিনি। শুরু থেকেই দাপট দেখান ৪০ বছরের শর্মিলা। ছ’টি থ্রোয়ের সুযোগ ছিল। তার মধ্যে শর্মিলার সেরা থ্রো ছিল ৯.৮১ মিটার। সেই দূরত্ব আর কেউ ছুঁতে পারেননি। একই ইভেন্টে ৭.২৬ মিটার থ্রো করে ব্রোঞ্জ জিতেছেন ভারতের শিল্পা কে শায়লা। ভারোত্তোলনের ৭৯ কেজি বিভাগে মোট ৩৩০ কেজি তুলে রুপো পেয়েছেন ভল্লুরি অজয় বাবু। সোনাজয়ী মালয়েশিয়ার এরি হিদায়াত মুহাম্মদের থেকে তিনি পিছিয়ে ছিলেন মাত্র ১ কেজি। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সোনার দৌড়ে ছিলেন ভল্লুরি অজয় বাবু। স্ন্যাচে ১৪৯ কেজি তুলে এগিয়েও যান। কিন্তু ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১৮১ কেজি তুলেও শেষ পর্যন্ত সোনা হাতছাড়া হয়। মোট ৩৩০ কেজি তুলে রুপো নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় অজয়কে।
এথলেটিক্স-এ পুরুষদের হাই জাম্পে ২.২৬ মিটার টপকে দ্বিতীয় হয়েছেন সর্বেশ অনিল কুশারে।
পুরুষদের হাই জাম্পের ফাইনালে ২.২৬ মিটার টপকে রুপোর পদক নিশ্চিত করেন সর্বেশ অনিল কুশারে। ধারাবাহিক ভাবে ভালো পারফরম্যান্স ছিল তাঁর। শেষ পর্যন্ত সর্বেশের হাত ধরেই ভারতের পদক তালিকায় আরও একটি রুপো যোগ হলো। এ দিন সকালে ভারোত্তোলনে জ্ঞানেশ্বরী যাদব রুপো এবং বিন্দিয়ারানি দেবী ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন। সব মিলিয়ে ভারতের মোট পদক সংখ্যা পৌঁছেছে ১০-এ। এর মধ্যে ছ’টি এসেছে ভারোত্তোলন থেকে।
ভল্লুরি অজয় বাবু ভারতীয় ভারোত্তোলনের উদীয়মান মুখ। ২০২৩-এ খেলো ইন্ডিয়া ইয়ুথ গেমসে জাতীয় রেকর্ড গড়ে প্রথম আলোচনায় আসেন তিনি। তার পর থেকে একের পর এক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নিজেকে প্রমাণ করেছেন। ২০২৪-এর কমনওয়েলথ ওয়েটলিফটিং চ্যাম্পিয়নশিপে জুনিয়র ও সিনিয়র – দুই বিভাগেই সোনা জিতেছিলেন। ২০২৫-এ আমেদাবাদে কমনওয়েলথ ওয়েটলিফটিং চ্যাম্পিয়নশিপে ৩৩৫ কেজি ওজন তুলে ৭৯ কেজি বিভাগে সোনা লিখে নিয়েছিলেন নিজের নামের পাশে। কিন্তু এ বারে এক কেজির জন্য সোনা হাতছাড়া হলো।


