সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের বিশেষ সাধারণ সভায় রাজ্য ফুটবল সংস্থাগুলির জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
রবিবার অনুষ্ঠিত সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুসারে আগামী ৪ নভেম্বরের মধ্যে প্রতিটি রাজ্য ফুটবল সংস্থাকে তাদের নিজস্ব নির্বাচন প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলকভাবে সম্পন্ন করতে হবে।
ফেডারেশনের মূল বা সাধারণ নির্বাচনের আগে সমস্ত রাজ্য স্তরের সংস্থায় যাতে স্বচ্ছ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বজায় থাকে, তা নিশ্চিত করতেই এই ৪ নভেম্বরের ডেডলাইন বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী, রাজ্য ফুটবল সংস্থাগুলির নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই আগামী ২০ ডিসেম্বর সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের মূল নির্বাচনে ভোট দেওয়ার বা অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। তাই মূল নির্বাচনের আগে রাজ্যগুলির ভোট প্রক্রিয়া শেষ করা বাধ্যতামূলক।
কলকাতার এই বৈঠকে উপস্থিত বিভিন্ন রাজ্যের প্রতিনিধিরা সর্বসম্মতিক্রমে এই নির্বাচনী রোডম্যাপ মেনে নিয়েছেন, যাতে জাতীয় ক্রীড়া বিধির নিয়ম মেনে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ ভারতীয় ফুটবলের গভর্নিং বডি পুনর্গঠন করা সম্ভব হয়।
জাতীয় ক্রীড়া প্রশাসন আইন ২০২৫-এর নির্দেশিকা মেনে এবং সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সংশোধিত ও অনুমোদিত নতুন সংবিধান অনুযায়ী রাজ্য ফুটবল সংস্থাগুলির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন ক্রীড়া নীতি অনুযায়ী গঠিত ‘ন্যাশনাল স্পোর্টস গভর্ন্যান্স অ্যাক্ট’-এর স্বচ্ছতা ও সুশাসনের ধারাগুলি প্রতিটি রাজ্য সংস্থাকে মেনে চলতে হবে।
ফেডারেশন-এর সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত সংশোধিত সংবিধানের সাথে সামঞ্জস্য রেখেই প্রতিটি রাজ্য ফুটবল সংস্থাকে তাদের নির্বাচনী নিয়মাবলী ও কাঠামো তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজ্য স্তরের এই নির্বাচনগুলি যাতে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও আইনসম্মতভাবে সম্পন্ন হয়, তা তদারকি করার জন্য একটি নির্দিষ্ট এআইএফএফ ইলেকশন প্যানেল গঠন করা হয়েছে।
সংক্ষেপে, দেশীয় ক্রীড়া আইন এবং জাতীয় ফুটবল ফেডারেশনের নতুন সংবিধান – এই দুটির যৌথ আইনি পরিকাঠামো মেনেই রাজ্য সংস্থাগুলিকে ৪ নভেম্বরের মধ্যে তাদের ভোট প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।
এদিকে, সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের বিশেষ সাধারণ সভায় আগামী ২০ ডিসেম্বর সাধারণ নির্বাচন করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত ৪ অক্টোবর কলকাতায় ফেডারেশনের এই গুরুত্বপূর্ণ বিশেষ সাধারণ সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, বিভিন্ন রাজ্য সংস্থার প্রতিনিধি এবং ফিফা ও এএফসি-র কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা নিয়ে সমস্ত জল্পনার ইতি টানা হয়। ফেডারেশনের নতুন কর্মকর্তাদের নির্বাচন নিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ২০ ডিসেম্বর নির্বাচনের দিন হিসেবে ধার্য করা হয়েছে।
নির্বাচন প্রক্রিয়া সুচারু ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করার জন্য হরিয়ানার প্রাক্তন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব শর্মা-কে প্রধান নির্বাচনী আধিকারিক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
নতুন কমিটি গঠন না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে ফেডারেশনের কাজ সচল রাখতে বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির মেয়াদ ৩০ ডিসেম্বর অথবা নতুন নির্বাচিত কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ করা পর্যন্ত (যেটি আগে হবে) বাড়ানো হয়েছে।
সভায় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ভারতের আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচগুলির (ব্রাজিল ও উরুগুয়ের বিরুদ্ধে) আর্থিক বিষয় ও টিকিট বণ্টন নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। কোটি টাকার ওপর লেনদেন হওয়া সত্ত্বেও ফাইন্যান্স কমিটিকে অন্ধকারে রাখার যে অভিযোগ উঠেছিল, তার জবাবে ফেডারেশন সভাপতি কল্যাণ চৌবে স্পষ্ট জানান যে, এই ম্যাচগুলির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ফেডারেশনের নিজস্ব তহবিল থেকে দেওয়া হচ্ছে না, ফলে এতে ফাইন্যান্স কমিটির অনুমোদনের কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না। এছাড়াও ম্যাচে দর্শক উপস্থিতি এবং প্রায় ৪০,০০০ কমপ্লিমেন্টারি টিকিট বিতরণ করা নিয়েও সভায় প্রশ্ন তোলা হয়।
এর আগে এবছরের জুনে আয়োজিত অপর একটি সভায় সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের নাম পরিবর্তন করে ‘ফুটবল ফেডারেশন অফ ভারত’ করার এবং ঘরোয়া লিগে বিদেশি ফুটবলারের সংখ্যা কমানোর প্রস্তাব পাস করা হয়েছিল, যা বর্তমানে কেন্দ্রীয় ক্রীড়া মন্ত্রকের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।


